
ডা. কামরুল হাসান, যে মানুষটি ৩০ লাখ টাকার সার্জারি করেন মাত্র ২ লাখ টাকায়।
আর এই ২ লাখ টাকার এক টাকাও তার নিজের পকেটে যায় না। এটা শুধু আনুষঙ্গিক খরচ ,সার্জারিটা তিনি করেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
২০০৭ সাল থেকে শুরু করে গত ১৭ বছরে তিনি ২০০০-এরও বেশি কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পূর্ণ ফ্রিতে করেছেন।
শুধু এখানেই শেষ না।
রোগীদের ফলোআপের জন্যও তিনি কোনো ফি নেন না। তার নিজের হাসপাতাল ,“সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (CKD)” , এ রোগ নির্ণয়ের জন্য কোনো টাকা লাগে না। ভর্তি রোগীদের খাবারের জন্যও দিতে হয় না এক টাকাও।
সপ্তাহে ৭ দিনের মধ্যে ৬ দিনই তিনি কোনো না কোনো সার্জারিতে ব্যস্ত থাকেন।
তার হাসপাতালের ৪৫০ জন কর্মীর মধ্যে প্রায় ২০০ জনের থাকার ব্যবস্থা করেছেন তিনি নিজেই। এমনকি এই স্টাফদের প্রতিদিন ৩ বেলা খাবারও দেওয়া হয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয় ,যে সার্জারির জন্য বিদেশে ৩০–৫০ লাখ টাকা লাগে, আর দেশেও যেখানে অন্তত ১০–১৫ লাখ টাকা খরচ হয় ,সেখানে তিনি কেন কোটি কোটি টাকা ছাড় দিয়ে এসব কাজ বিনামূল্যে করছেন?
তিনি উত্তর দেন ,
তিনি তার কাজটাকে একটা ‘ইবাদাত’ বানাতে চান। দুনিয়াতে এর কোনো প্রতিদান তিনি আশা করেন না।
ঠিক এমন একজন মানুষের কাছেই দীর্ঘদিন ধরে চাওয়া হচ্ছিল চাঁদা।
শুরুতেই বলেছি ,হাসপাতালের স্টাফদের খাবারও ফ্রিতে দেওয়া হয়। তাই প্রতিদিনের খাবার কেনা হয় সবচেয়ে কম দামে, ভালো মান বজায় রেখে। এই সুযোগেই নজর পড়ে যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনের। খাবার সরবরাহের টেন্ডারটা অনেকটা জোর করেই নিয়ে নেয় সে। প্রথমে সমস্যা না হলেও, পরে সে খাবারের দাম বাড়াতে শুরু করে ,প্রতি কেজিতে অতিরিক্ত ১১–১২ টাকা পর্যন্ত রাখা হয়। ফলে ৮ হাজার টাকার খাবার হয়ে যায় ১০ হাজার টাকা।
এই অনিয়মের কারণে তার টেন্ডার বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় চাঁদা দাবি, ভয় দেখানো, এবং বিভিন্ন অজুহাতে হাসপাতালের উপর চাপ সৃষ্টি।
ডা. কামরুল হাসান একাধিকবার বিএনপির বিভিন্ন নেতার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো সমাধান আসেনি।
পরবর্তীতে বিষয়টি মিডিয়ায় আসার পর যুবদলের সভাপতি-সম্পাদকসহ অনেকে এসে তার সাথে দেখা করেন এবং ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে ,তাদের কাছে কোনো চাঁদাবাজির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। তবে শুক্রবার থানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মঈন উদ্দিনের মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠক হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো ,
এমন একজন মানুষের কাছ থেকেও কেউ কীভাবে চাঁদা দাবি করতে পারে?
চাঁদাবাজি কারও ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য না ,কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় ধরে নিলাম এটা ঘটে। তবুও, ডা. কামরুল হাসানের মতো একজন মানুষের সাথে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আরও বড় প্রশ্ন হলো ,
যদি তিনি আগে থেকেই অভিযোগ জানিয়ে থাকেন, তাহলে সমাধান আসতে এত দেরি হলো কেন? কেন বিষয়টি মিডিয়ায় আসার পরেই নড়াচড়া শুরু হলো?
দিন দিন আমাদের বিচারব্যবস্থা যেন এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে, যেখানে ন্যায়বিচার হবে কি না ,তা নির্ভর করছে কোনো বিষয়টা ভাইরাল হলো কি না তার উপর।
একজন মানুষ, যিনি হাজারো মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছেন…তার কাছেও যদি চাঁদা চাওয়া হয় ,
তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
আর যদি বিচার পাওয়ার জন্য “ভাইরাল” হতে হয় ,
তাহলে আমাদের বিচারব্যবস্থা আসলে কতটা কার্যকর? ডাঃ কামরুল ইসলাম। পশ্চিমা দেশে জন্মালে আপনি হতে পারতেন একজন মহামানব। অভাগা আমরা। 🥲
@drkamrulislam @ডাঃকামরুলইসলাম