চব্বিশের জুলাই এর স্মৃতি রক্ষায় সত্যিই কি টাকা নেই সরকারের কাছে নাকি শুধু বাহানা মাত্র?
চব্বিশের জুলাই এর গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে এসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি প্রশ্ন ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে: যে অভ্যুত্থান একটি দীর্ঘস্থায়ী শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়েছিল, সেই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের দায়িত্ব রাষ্ট্র কতটা আন্তরিকভাবে পালন করছে? এই প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, জুলাইকে জীবিত রাখা ক্ষমতাসীনদের স্বার্থের পরিপন্থী বলেই জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে বাজেট দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগটি গুরুতর, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এবং একই সঙ্গে বর্তমান সরকার, বিরোধী দল ও জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সম্পর্কের এক জটিল চিত্র তুলে ধরে।
এই প্রতিবেদনে আমরা দেখব ইনকিলাব মঞ্চ ঠিক কী বলেছে, জুলাই ফাউন্ডেশনের আর্থিক বাস্তবতা কেমন, সংকটের দায় কতটা বর্তমান সরকারের আর কতটা কাঠামোগত, এবং জুলাই সনদ ও গণভোট ঘিরে চলমান সরকার-বিরোধী টানাপোড়েন এই বিতর্ককে কীভাবে প্রভাবিত করছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কী বললেন আব্দুল্লাহ আল জাবের
বুধবার (২৮ অক্টোবর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সংগঠনটির আহ্বায়ক। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রীয় দাবি ছিল, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তারাই জুলাইকে সবচেয়ে বেশি অবহেলা করেছেন, এবং সরকার গত ঈদের পর থেকে জুলাই ফাউন্ডেশনে কোনো বাজেট দিচ্ছে না। banglatribunebartabazar
অভিযোগের পেছনে তিনি একটি রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও হাজির করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ দিয়ে জুলাইয়ের স্মৃতি ও চেতনা টিকিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করা যাবে না। অর্থাৎ তিনি বাজেট না দেওয়াকে নিছক প্রশাসনিক জটিলতা হিসেবে দেখছেন না; বরং একে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ও আর্থিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত একটি সচেতন সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। banglatribune
বক্তব্যে তিনি অগ্রাধিকারের প্রশ্নও তোলেন। ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে সরকারের ৮৪ হাজার কোটি টাকা থাকলেও জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কোনো টাকা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। বড় অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থ আমলা ও প্রভাবশালীদের পরিবারের সুবিধায় চলে যায়, এমন ইঙ্গিতও ছিল তাঁর বক্তব্যে। risingbd
উল্লেখ্য, এগুলো একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতার অভিযোগ ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা। বাজেট না দেওয়ার পেছনে সরকারের সচেতন উদ্দেশ্য আছে কি না, সে বিষয়ে কোনো সরকারি দলিল বা স্বীকারোক্তি এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। এই অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
‘মার্চ ফর ইনসাফ’: কর্মসূচির প্রেক্ষাপট ও তিন দফা দাবি
জাবেরের এই বক্তব্য এসেছে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে। ন্যায়বিচার, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবিতে ৩৬ দিনের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। আগামী ৭ অক্টোবর থেকে দেশের সর্বউত্তরের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা থেকে শুরু হয়ে সর্বদক্ষিণের টেকনাফের জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা এই পদযাত্রার। ৩৬ দিনের এই হিসাবটি প্রতীকী, কারণ জুলাই আন্দোলনের সমর্থকেরা অভ্যুত্থানের দিনগুলোকে ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে স্মরণ করেন। khoborsangjog
কর্মসূচির দাবিগুলোও স্পষ্ট। সংগঠনটি শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার তিন দফা দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে। অর্থাৎ ফাউন্ডেশনের বাজেট প্রশ্নটি এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক দাবির তালিকায় না থাকলেও, ‘জুলাইকে অবহেলা’ করার বৃহত্তর অভিযোগের একটি দৃশ্যমান উদাহরণ হিসেবে এটি সামনে এসেছে। bartabazar
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন: সংকটের প্রকৃত চিত্র
ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু ফাউন্ডেশনের আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ কম। একাধিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই সংকটের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে।
আজকের পত্রিকার আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাকা না থাকায় আহত জুলাই যোদ্ধাদের অনেককে এখনো সহায়তা দেওয়া যায়নি। ফাউন্ডেশনের কর্মীরাও পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এমনকি শাহবাগে ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ের ১২ মাসের ভাড়া প্রায় ২৪ লাখ টাকা বকেয়া পড়েছে। ajkerpatrika
সংখ্যার হিসাবে চাহিদা ও প্রাপ্তির ফারাক বিশাল। ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, শহীদ ও আহতদের সহায়তার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৮৩ কোটি টাকা। কিন্তু সরকার থেকে ফাউন্ডেশন পেয়েছে ১০০ কোটি টাকা এবং বেসরকারি সহায়তা পেয়েছে ২০ কোটি টাকা। একই প্রতিবেদন জানায়, বর্তমানে সরকারের গেজেটভুক্ত জুলাই শহীদের সংখ্যা ৮৪৩ এবং আহত জুলাই যোদ্ধা ১৪ হাজার ৩৭০ জন। ajkerpatrikaajkerpatrika
সীমিত তহবিলেও ফাউন্ডেশন উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে। ৮৩১টি শহীদ পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে প্রায় ৪২ কোটি টাকা এবং ৬ হাজার ১২৭ জন আহত ব্যক্তিকে প্রায় ৭৮ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে আহত প্রায় ৮ হাজার জুলাই যোদ্ধাকে এখনো সহায়তা দেওয়া যায়নি। অর্থাৎ গেজেটভুক্ত আহতদের অর্ধেকেরও বেশি এখনো প্রতিশ্রুত সহায়তার বাইরে। ajkerpatrikaajkerpatrika
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অবস্থাও নাজুক। অর্থাভাবে ফাউন্ডেশনের ৩৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতাও আটকে আছে। কর্মীদের ঈদ বোনাস দিতে ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামাল আকবর ব্যক্তিগতভাবে ১০ লাখ টাকা বিনা সুদে ঋণ দিয়েছেন এবং নিজেও কয়েক মাস বেতন নিচ্ছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ajkerpatrikaajkerpatrika
এই অবস্থায় ফাউন্ডেশন বিকল্প পথও খুঁজেছে। আইটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বার বার আবেদন করেও মেলেনি টাকা। বাধ্য হয়ে এমপিদের ১ মাসের বেতন অনুদান হিসেবে দেওয়ার আহ্বান জানায় প্রতিষ্ঠানটি। সিইও কামাল আকবর সেখানে জানান, ২০২৪ সালের পর আর টাকা দেওয়া হয়নি। ১৫ বার মন্ত্রণালে যোগাযোগ করেছি। itvbditvbd
সংকট কি শুধুই বর্তমান সরকারের সৃষ্টি?
একটি নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের জন্য এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। ইনকিলাব মঞ্চ দায় চাপাচ্ছে বর্তমান বিএনপি সরকারের ওপর, কিন্তু গণমাধ্যমের পুরোনো প্রতিবেদন বলছে, ফাউন্ডেশনের পরিচালন ব্যয়ের সংকট শুরু হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই।
প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে আট মাসের জন্য (২০২৪ নভেম্বর থেকে ২০২৫ জুন) আবর্তক ব্যয় খাতে মোট ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছিল ফাউন্ডেশন। প্রথম আলোর আরেকটি প্রতিবেদন জানায়, তা দিয়ে দুই অর্থবছর চলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও প্রথম আলো জানিয়েছিল, ফাউন্ডেশন আবর্তক ব্যয় খাতে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠালেও জবাব আসেনি এবং কর্মীদের বেতন অনিশ্চয়তায় পড়েছিল। সরকারের কাছে হাত পেতে জুলাই ফাউন্ডেশন আর কত দিন চলতে পারবে +2
এই তথ্য ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগকে পুরোপুরি খণ্ডন করে না, আবার পুরোপুরি সমর্থনও করে না। বরং এটি ইঙ্গিত দেয় যে সমস্যাটির একটি কাঠামোগত দিক রয়েছে। ফাউন্ডেশনের জন্য কখনোই স্থায়ী ও নিয়মিত বাজেট কাঠামো তৈরি করা হয়নি; এককালীন অনুদান ও অস্থায়ী বরাদ্দের ওপর নির্ভর করে একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন চলতে পারে না। তবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই কাঠামোগত ঘাটতি দূর করার দায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের ওপর বর্তায়, এবং সেখানেই বর্তমান সরকারের প্রতি প্রশ্ন জোরালো হয়।
ফাউন্ডেশনের সিইও নিজে অবশ্য বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোনো ষড়যন্ত্রের কথা বলেননি। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতির কারণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ আসতে দেরি হচ্ছে। তাঁর হিসাবে, ফাউন্ডেশন সচল রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবছর অন্তত ১০ কোটি টাকার পরিচালন ব্যয়ের স্থায়ী বরাদ্দ প্রয়োজন। পাশাপাশি স্মৃতি সংরক্ষণ, ডিজিটাল আর্কাইভ ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্য পৃথক অর্থায়নের কথাও বলেছেন তিনি। ajkerpatrikaajkerpatrika
সংসদে বিষয়টি উঠেছিল, তবু সমাধান আসেনি
বিষয়টি শুধু রাজপথের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়; জাতীয় সংসদেও এটি আলোচিত হয়েছে। জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর গত ৯ জুন ফাউন্ডেশনের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে লিখিত আবেদন করেন ফাউন্ডেশনের সিইও। নাহিদ ইসলাম ২৮ জুন সংসদে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান। ajkerpatrika
জুনে সংসদে দাবি ওঠার চার মাস পরও যখন ইনকিলাব মঞ্চ বলছে বাজেট আসেনি, তখন সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। এটি সচেতন অবহেলা, নাকি আমলাতান্ত্রিক জট, নাকি অগ্রাধিকারের তালিকায় পিছিয়ে পড়া, সে বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে আসা জরুরি।
রেললাইন বনাম স্মৃতি: অগ্রাধিকারের রাজনীতি
জাবেরের রেললাইন প্রসঙ্গটি রাজনৈতিক বক্তৃতার একটি পরিচিত কৌশল: বড় অঙ্কের অবকাঠামো ব্যয়ের পাশে ছোট অঙ্কের মানবিক চাহিদা দাঁড় করিয়ে বৈপরীত্য দেখানো। এই তুলনার সমালোচকেরা বলতে পারেন, যোগাযোগ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, আর দুটি খাতের বাজেট আলাদা উৎস ও প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়। তাই সরাসরি তুলনা অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি যথার্থ নয়।
অন্যদিকে, এই তুলনার পক্ষের যুক্তিও শক্ত। ফাউন্ডেশনের সিইও যে বার্ষিক ১০ কোটি টাকার কথা বলছেন, তা জাতীয় বাজেটের তুলনায় অতি সামান্য। যে রাষ্ট্র হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিতে পারে, সে রাষ্ট্র নিজেরই গেজেটভুক্ত আহতদের অর্ধেকের বেশিকে সহায়তা দিতে পারছে না, এটি রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রশ্ন তোলে। জুলাই আন্দোলনের সমর্থকদের কাছে বিষয়টি শুধু টাকার নয়, প্রতীকেরও; রাষ্ট্র কাকে স্মরণ করে আর কাকে ভুলে যায়, সেটিই এখানে আসল প্রশ্ন।
জুলাই সনদ ও গণভোট: বৃহত্তর দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপট
ফাউন্ডেশনের বাজেট বিতর্ককে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে চলবে না। এটি জুলাই-পরবর্তী রাজনীতির একটি বড় দ্বন্দ্বের অংশ, যার কেন্দ্রে রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ।
জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং ২৪টি রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরে গৃহীত হয়, পরে আরও দুটি দল স্বাক্ষর করায় মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬। এতে সাংবিধানিক, বিচারিক ও আইনি সংস্কারসহ আশিটিরও বেশি প্রস্তাব রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সনদের মূল প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট হয়। প্রথম আলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গণভোটের ব্যালটে বিএনপি বা অন্য কোনো দলের ভিন্নমতের বিষয়গুলোর কোনো উল্লেখ ছিল না। Wikipediaprothomalo
এখান থেকেই বিরোধের সূত্রপাত। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, সনদ যেভাবে ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে সেভাবে বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। কিন্তু বিএনপির মতে, এর অর্থ হলো জুলাই সনদ সই হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমতসহ। অর্থাৎ যেসব প্রস্তাবে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল, সেগুলো তারা হুবহু বাস্তবায়নে বাধ্য মনে করে না। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর অবস্থান হলো, গণভোটে জনগণ সনদের মূল প্রস্তাব অনুমোদন করায় সেই ভিন্নমত আর প্রাসঙ্গিক নয়। prothomalo
সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি সরকার গঠন করার পর সংসদে গণভোট অধ্যাদেশ পাস করা হয়নি। জুলাই আদেশও উত্থাপন করা হয়নি। এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য হলো, বিএনপির নোট অব ডিসেন্টকে নাকচ করে জনগণ গণভোটে জুলাই সনদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অনুমোদন করেছে। samakalsamakal
সরকারের পক্ষেরও ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আগে বলেছিলেন, জুলাই সনদ একটি স্বতন্ত্র ও কার্যকর দলিল, যার বাস্তবায়নের সঙ্গে গণভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। বর্তমান সংসদই এ সনদ কার্যকর করতে সক্ষম। আর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সরকার সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। সরকারের দাবি, এ লক্ষ্যে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। dnnbddailynayadiganta
বিরোধী দল এই আশ্বাসে আস্থা রাখছে না। এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর, বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং গণভোটে পাস হওয়ার পরও বিএনপি সরকার সংস্কারের প্রস্তাবগুলো মানতে চায় না। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদও বলেছেন, বিএনপি সত্যিই সনদ ধারণ করলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করত। mzaminmzamin
এই প্রেক্ষাপটে ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগটি একটি বৃহত্তর বয়ানের অংশ হয়ে দাঁড়ায়: জুলাইয়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, অর্থাৎ সংস্কার, এবং জুলাইয়ের মানবিক উত্তরাধিকার, অর্থাৎ শহীদ ও আহতদের দেখভাল, দুটোই উপেক্ষিত হচ্ছে। সরকারের সমর্থকেরা অবশ্য বলবেন, সংস্কার একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া যা তাড়াহুড়ো করে করা যায় না, এবং সংসদীয় পদ্ধতির মধ্যেই তা বাস্তবায়িত হবে।
বিরোধী দলও প্রশ্নের মুখে
জাবেরের বক্তব্যের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনি শুধু সরকারকে নয়, বিরোধী দলকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী জুলাইয়ের বদৌলতে ৭০টি আসন পেয়ে বিরোধী দল হয়েছে। সনদ বাস্তবায়নে দলটি কী কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চান তিনি। banglatribune
এটি ইনকিলাব মঞ্চের রাজনৈতিক অবস্থান বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠনটি নিজেকে কোনো দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে উপস্থাপন করছে না; বরং জুলাইয়ের ‘পাহারাদার’ হিসেবে সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষের জবাবদিহি চাইছে। জাবের বক্তব্যে এমনও ইঙ্গিত দেন যে, কে তাদের কী তকমা দেবে তা নিয়ে তারা ভাবিত নন, দেশের স্বার্থে প্রয়োজনে কারও পক্ষ নিতেও তারা প্রস্তুত।
ইনকিলাব মঞ্চ: আন্দোলন থেকে চাপ সৃষ্টিকারী শক্তি
ইনকিলাব মঞ্চ শুরু থেকেই জুলাই সনদ ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রশ্নে সোচ্চার। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংগঠনটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব বিপ্লবীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা করেছিল। পরে জুলাই সনদ ঘোষণার দাবিতেও আল্টিমেটাম দেয় তারা। তখন সংগঠনের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি বলেছিলেন, জুলাই কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। banglatribunebanglatribune
সেই হাদি এখন আর বেঁচে নেই; তাঁর হত্যার বিচারই এখন ‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এর প্রথম দাবি। এই বাস্তবতা সংগঠনটির রাজনীতিতে আবেগ ও ক্ষোভ দুটোই যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে সংগঠনটি সাংস্কৃতিক পরিসরেও সক্রিয়; চলতি বছরের জুলাইয়ে ইনকিলাব মঞ্চ ও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করে। jugantor
সংসদে প্রতিনিধিত্ব না থাকলেও রাজপথের কর্মসূচি, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সমাবেশ এবং দেশজুড়ে পদযাত্রার মাধ্যমে সংগঠনটি একটি চাপ সৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করছে। তাদের বক্তব্য কখনো কখনো কঠোর ও অভিযোগমূলক হলেও, ফাউন্ডেশনের মতো ইস্যুতে তারা এমন একটি বাস্তব সমস্যাকে সামনে আনছে যা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও স্বীকৃত।
জুলাই ইস্যুতে অন্যান্য বিতর্ক
ফাউন্ডেশন নিজেও বিতর্কমুক্ত নয়, সেটিও উল্লেখ করা প্রয়োজন। টিবিএস বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতনের অভিযোগে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১০ সদস্যসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। অভিযোগটি বিচারাধীন এবং প্রমাণিত নয়, তবে সরকার-সমর্থক মহল ফাউন্ডেশনের স্বচ্ছতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বরাদ্দে সতর্কতার যুক্তি দিতে পারে। অন্যদিকে ফাউন্ডেশনের সমর্থকেরা বলবেন, ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক, কিন্তু তার জন্য হাজারো আহতের সহায়তা বন্ধ রাখা যৌক্তিক নয়। tbsnews
সম্প্রতি সরকারি অনুষ্ঠানেও জুলাই ইস্যুতে অস্বস্তি দেখা গেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনায় প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে গণ-অভ্যুত্থানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ ও অবদান যথাযথভাবে উপস্থাপিত না হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে আজকের পত্রিকা জানিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা জুলাই আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে এই ধারণাকে জোরালো করে যে, অভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্বীকৃতি নিয়ে রাষ্ট্রের অবস্থান এখনো স্থির হয়নি। ajkerpatrika
সামনে কী: উত্তপ্ত সংসদ অধিবেশনের ইঙ্গিত
আসন্ন সংসদ অধিবেশনে এসব প্রশ্ন আরও তীব্র হতে পারে। ঢাকা মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামী ৯ নভেম্বর। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় কার্যকর করা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে। এর সঙ্গে উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও যুক্ত হয়েছে। dhakamail
এই অধিবেশনে জুলাই ফাউন্ডেশনের বরাদ্দ প্রশ্নটি আবার উঠবে কি না, এবং সরকার সেখানে কোনো স্থায়ী সমাধানের ঘোষণা দেয় কি না, তা পর্যবেক্ষণের বিষয়। একটি স্থায়ী পরিচালন বরাদ্দের ঘোষণা দিলে সরকার ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগের সবচেয়ে কার্যকর জবাব দিতে পারবে। আর নীরবতা অব্যাহত থাকলে ‘জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।
বিশ্লেষণ: অভিযোগ, বাস্তবতা ও দায়
পুরো বিষয়টিকে তিনটি স্তরে ভাগ করে দেখা যায়।
প্রথম স্তর হলো তথ্য। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন গুরুতর আর্থিক সংকটে আছে, কর্মীরা মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না, এবং হাজারো আহত জুলাই যোদ্ধা প্রতিশ্রুত সহায়তা পাননি। এ বিষয়ে একাধিক মূলধারার গণমাধ্যম ও ফাউন্ডেশনের নিজস্ব বক্তব্য একমত।
দ্বিতীয় স্তর হলো দায়। সংকটের সূত্রপাত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্থায়ী বাজেট কাঠামো তৈরি না হওয়ায়। তবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাসের পর মাস আবেদন, সংসদে উত্থাপন ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের পরও সমাধান না আসায় বর্তমান সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ কম।
তৃতীয় স্তর হলো উদ্দেশ্য। এখানেই ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগ সবচেয়ে বিতর্কিত। সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জুলাইকে দুর্বল করতে চাইছে এবং এর পেছনে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির স্বার্থ কাজ করছে, এই দাবি একটি রাজনৈতিক ব্যাখ্যা, যার পক্ষে সরাসরি প্রমাণ এখনো জনসমক্ষে নেই। ফাউন্ডেশনের সিইও নিজে এর কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধীরগতির কথা বলেছেন। আবার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের অবস্থান যেভাবে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে, তাতে অনেকের কাছে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যাখ্যা বিশ্বাসযোগ্য মনে হতেই পারে।
উপসংহার
জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক নির্ণায়ক অধ্যায়। এই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব কোনো দলীয় বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের নৈতিক অঙ্গীকারের প্রশ্ন। ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগের রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু যে সংকটের দিকে তারা আঙুল তুলেছে তা বাস্তব।
সরকারের সামনে এখন দুটি পথ খোলা। একটি হলো ফাউন্ডেশনের জন্য স্থায়ী ও স্বচ্ছ বাজেট কাঠামো নিশ্চিত করে, প্রয়োজনে নিরীক্ষা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা রেখে, আহতদের বকেয়া সহায়তা পরিশোধ করা। অন্যটি হলো নীরব থেকে বিরোধীদের অভিযোগকে আরও জোরালো হওয়ার সুযোগ দেওয়া। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে যে আস্থার সংকট ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে জুলাই শহীদদের স্মৃতি রক্ষার প্রতিষ্ঠানটি সচল রাখা হতে পারে সরকারের সদিচ্ছা প্রমাণের সবচেয়ে সহজ ও দৃশ্যমান উপায়।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি টাকার অঙ্কের চেয়ে বড়। একটি রাষ্ট্র তার নিকট অতীতের আত্মত্যাগকে কীভাবে মূল্যায়ন করে, তার ওপরই নির্ভর করে ভবিষ্যতে নাগরিকেরা রাষ্ট্রের ওপর কতটা আস্থা রাখবেন।
তথ্যসূত্র:
বাংলা ট্রিবিউন – জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখা তাদের জন্য হুমকি, এজন্য ফাউন্ডেশনে বাজেট দিচ্ছে না সরকার: ইনকিলাব মঞ্চ: https://www.banglatribune.com/country/chitagong/977372
রাইজিংবিডি – জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখলে টেন্ডার বাজি-চাঁদাবাজি করা যাবে না: জাবের: https://www.risingbd.com/campus/comilla-university/668542
বার্তা বাজার – জুলাইয়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা ব্যক্তিরাই জুলাইকে সবচেয়ে বেশি অবহেলা করেছেন: https://bartabazar.com/news/372636/
খবর সংযোগ – ইনকিলাব মঞ্চের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা (মার্চ ফর ইনসাফ): https://www.khoborsangjog.com/politics/126150
আজকের পত্রিকা – আর্থিক সংকটে হিমশিম জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন: https://www.ajkerpatrika.com/bishesh/ajpy9rfet6xvi
আইটিভি – আর্থিক সংকটে পড়েছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন: https://www.itvbd.com/national/266270
প্রথম আলো – জুলাই ফাউন্ডেশনের টিকে থাকার লড়াই: https://www.prothomalo.com/bangladesh/dokroz3tkw
প্রথম আলো – সরকারের কাছে হাত পেতে জুলাই ফাউন্ডেশন আর কত দিন চলতে পারবে: https://www.prothomalo.com/bangladesh/g47ljr9ox8
প্রথম আলো – জুলাই ফাউন্ডেশন পরিচালনায় টাকা নেই, অনিশ্চয়তায় কর্মীদের বেতন: https://www.prothomalo.com/bangladesh/2ko8tswtg0
প্রথম আলো – কিছু মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে মতপার্থক্য রয়ে গেছে: https://www.prothomalo.com/politics/k3rcybyg0u
সমকাল – জুলাই সনদ যতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছিল তাও বাতিল: https://samakal.com/bangladesh/article/378353
মানবজমিন – বিএনপি সংস্কারের কোনো এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করতে চায় না: আখতার: https://www.mzamin.com/article/53257
মানবজমিন – জুলাই সনদের ১ বছর: স্বাক্ষরেই থমকে আছে সংস্কার: https://www.mzamin.com/article/50767
নয়া দিগন্ত – জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বছর পার, ক্ষমতার রাজনীতিতে আটকা সংস্কার: https://dailynayadiganta.com/post/other/1062498
ঢাকা মেইল – জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে বিরোধ, উত্তপ্ত হতে পারে সংসদ: https://dhakamail.com/national/338893
ডিএনএন বিডি – জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের কোন সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী: https://www.dnnbd.com
টিবিএস বাংলা – জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা: https://www.tbsnews.net/bangla/bangladesh/news-details-401216
বাংলা ট্রিবিউন – জুলাই সনদ ঘোষণার আল্টিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের: https://www.banglatribune.com/politics/other-politics/905349
Wikipedia – July Charter: https://en.wikipedia.org/wiki/July_Charter
