LIVE
Islamic

শয়তানের ভয়ঙ্কর চিৎকার, ইবলিশের শেষ পরিণতি কি হবে জানুন সতর্ক হন।

Author: Published: Updated: 11/10/2026 Comments: 1 Estimated reading time: 8 min read Views: 275 views
শয়তানের ভয়ঙ্কর চিৎকার, ইবলিশের  শেষ পরিণতি কি হবে জানুন সতর্ক হন।

শয়তানের ভয়ঙ্কর চিৎকার ও তার করুণ পরিণতি | শয়তান থেকে বাঁচার উপায় শয়তান—মানবজাতির প্রকাশ্য শত্রু। তার প্রধান কাজ মানুষকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া, পাপকে সুন্দর করে দেখানো এবং মানুষের অন্তরে সন্দেহ ও কুমন্ত্রণা সৃষ্টি করা। ইসলামী বর্ণনায় ইবলিশের কাহিনি শুধু একটি অতীত ঘটনা নয়; বরং এর মধ্যে মানুষের জন্য রয়েছে গভীর সতর্কবার্তা।এই আলোচনায় উঠে এসেছে ইবলিশের অহংকার, আদম আলাইহিস সালামের প্রতি সিজদার আদেশ, আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার পর তার পতন এবং মানুষের প্রতি তার অব্যাহত শত্রুতার বিষয়গুলো।

ইবলিশের শেষ পরিণতি ও তার ভয়ঙ্কর চিৎকারের একটি বর্ণনাও তুলে ধরা হয়েছে।তবে কুরআনে নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত বিষয় হলো—আল্লাহ যখন ফেরেশতাদের আদম আলাইহিস সালামের সামনে সিজদা করতে নির্দেশ দেন, তখন ইবলিশ অস্বীকার করে এবং অহংকার করে।

শয়তানের ভয়ঙ্কর চিৎকারইবলিশের পতনের শুরু

ইবলিশের পতনের মূল কারণ ছিল অহংকার ও আল্লাহর নির্দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। আদম আলাইহিস সালামের সামনে সিজদার নির্দেশ পাওয়ার পর সে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করে।

কুরআনে সূরা আল-বাকারার ৩৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ ফেরেশতাদের আদমের সামনে সিজদা করতে বললে সবাই সিজদা করল, কিন্তু ইবলিশ অস্বীকার করল এবং অহংকার করল।

এখানেই রয়েছে মানুষের জন্য একটি বড় শিক্ষা—জ্ঞান, ইবাদত বা কোনো ধরনের মর্যাদা মানুষকে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার অধিকার দেয় না।

ইবলিশের সমস্যা ছিল সে আল্লাহর আদেশের সামনে নিজের বিচার-বুদ্ধি ও অহংকারকে প্রাধান্য দিয়েছিল। তার পতন শুরু হয়েছিল হৃদয়ের ভেতর থেকে, আর পরে তা প্রকাশ পায় অবাধ্যতার মাধ্যমে।

আদম আলাইহিস সালামের প্রতি সিজদার ঘটনা

আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার পর আল্লাহ ফেরেশতাদের তাঁর সামনে সিজদা করার নির্দেশ দেন। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা।

ফেরেশতারা নির্দেশ পালন করেন। কিন্তু ইবলিশ অস্বীকার করে।

কুরআনের বর্ণনায় ইবলিশের এই অবাধ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা বহন করে। সে আল্লাহর আদেশের সামনে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করেছিল। তার অহংকার তাকে সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে।

এই ঘটনার পর ইবলিশ মানুষের শত্রু হয়ে ওঠে এবং মানুষকে বিপথে নেওয়ার চেষ্টা করার সংকল্প করে।

মানুষের প্রতি শয়তানের শত্রুতা

শয়তানের কৌশল সব সময় প্রকাশ্য নয়। সে মানুষের কাছে এসে সরাসরি বলে না যে তুমি আল্লাহকে অমান্য করো। বরং ধীরে ধীরে সন্দেহ সৃষ্টি করে, পাপকে আকর্ষণীয় করে তোলে এবং মানুষকে এমন পথে নিয়ে যায়, যেখানে সে নিজের ভুলকেও সঠিক মনে করতে শুরু করে।

কুরআনের শেষ সূরা সূরা আন-নাসে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা প্রদানকারীর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে শেখানো হয়েছে। সেখানে মানুষের রব, মানুষের বাদশাহ এবং মানুষের উপাস্যের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে। সূরাটিতে জিন ও মানুষের মধ্যকার কুমন্ত্রণাদাতাদের কথাও এসেছে।

এ কারণে শয়তানের বিরুদ্ধে মুমিনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা।

শয়তানের ওয়াসওয়াসা

মানুষের মনে নানা ধরনের চিন্তা আসতে পারে। কখনো এমন চিন্তাও আসতে পারে, যা মানুষ নিজেই পছন্দ করে না। সাহাবিরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমন চিন্তার কথা বলেছিলেন।

সহিহ মুসলিমে ওয়াসওয়াসা সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে। সাহাবিরা এমন চিন্তার কথা জানান যা মুখে প্রকাশ করতেও তারা ভয় পেতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—মনে কোনো খারাপ চিন্তা আসা এবং সেটিকে বিশ্বাস বা কাজে পরিণত করা এক বিষয় নয়। একজন মুমিনের কর্তব্য হলো কুমন্ত্রণা এলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং সেই চিন্তার পেছনে না ছোটা।

আজান শুনলে শয়তানের পলায়ন

শয়তানের ওপর আজানের প্রভাব সম্পর্কে সহিহ হাদিস রয়েছে।

সহিহ বুখারি ৬০৮-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, আজান দেওয়া হলে শয়তান পালিয়ে যায় যাতে সে আজানের শব্দ না শুনতে পায়। আজান শেষ হলে সে ফিরে আসে। আবার ইকামত শুরু হলে পালিয়ে যায় এবং ইকামত শেষ হলে ফিরে এসে নামাজরত ব্যক্তির মনে বিভিন্ন বিষয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।

এ থেকে বোঝা যায়, নামাজ ও আজানের সঙ্গে মুমিনের সম্পর্ক শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে নিজেকে রক্ষা করারও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

শয়তান থেকে বাঁচার উপায়

শয়তান থেকে বাঁচার জন্য শুধু ভয় পাওয়া যথেষ্ট নয়। ইসলামী শিক্ষায় মুমিনকে কিছু বাস্তব আমল ও অভ্যাসের মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে বলা হয়েছে।

১. আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া

শয়তানের কুমন্ত্রণা অনুভূত হলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।

আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম—অর্থাৎ বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।

কুমন্ত্রণা নিয়ে দীর্ঘ সময় চিন্তা না করে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া এবং সেই চিন্তা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া জরুরি।

২. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রতিষ্ঠা করা

নামাজ মুমিনের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। নিয়মিত নামাজ মানুষকে আল্লাহর স্মরণে রাখে এবং তার জীবনে শৃঙ্খলা তৈরি করে।

শয়তান মানুষকে নামাজ থেকে দূরে রাখতে চায়—তাই নামাজকে গুরুত্ব দেওয়া তার প্ররোচনার বিরুদ্ধে একটি মৌলিক প্রতিরোধ।

৩. আয়াতুল কুরসি পাঠ করা

আয়াতুল কুরসি শয়তান থেকে সুরক্ষার আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সহিহ বুখারি ২৩১১-এর বিখ্যাত বর্ণনায় আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন ব্যক্তিকে রাতে নিজের কাছে চুরি করতে দেখেন। পরে সেই ব্যক্তি তাকে রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করার পরামর্শ দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে সত্য বলেছে, যদিও সে মিথ্যাবাদী—সে ছিল শয়তান।

তাই ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে গ্রহণ করা যায়।

৪. সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত

রাতে সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করার বিশেষ ফজিলত সহিহ বুখারিতে এসেছে।

সহিহ বুখারি ৫০০৯-এ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।

তাই রাতের আমলের তালিকায় এই দুই আয়াত রাখা যেতে পারে।

৫. সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ

রাতের সময় সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পাঠ করা মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত গুরুত্বপূর্ণ আমল।

বিশেষ করে সূরা ফালাক ও সূরা নাসে বিভিন্ন ধরনের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা রয়েছে। সূরা নাসে সরাসরি মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেওয়া শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।

৬. নিয়মিত জিকির করা

আল্লাহর জিকির মুমিনের হৃদয়কে জীবিত রাখে।

সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ—এসব জিকিরের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহকে স্মরণ করতে পারে।

যে হৃদয় আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকে, সেখানে শয়তানের কুমন্ত্রণা গ্রহণ করার সুযোগ কমে যায়। তাই সকাল-সন্ধ্যার জিকির, নামাজের পরের জিকির এবং অন্যান্য মাসনুন আমলকে জীবনের অংশ করে নেওয়া উপকারী।

৭. রাগ নিয়ন্ত্রণ করা

রাগ মানুষের চিন্তা ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। রাগের মুহূর্তে মানুষ এমন কথা বা কাজ করতে পারে, যার জন্য পরে অনুতপ্ত হতে হয়।

আপনার ভিডিও স্ক্রিপ্টে রাগকে শয়তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই রাগের সময় নিজেকে থামানো, আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তর্ক থেকে দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

৮. পাপের পর হতাশ না হওয়া

শয়তানের একটি বড় কৌশল হতে পারে মানুষকে এমন ধারণা দেওয়া যে তার আর ফিরে আসার পথ নেই।

কিন্তু কুরআন এই হতাশার বিপরীতে অত্যন্ত শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।

সূরা আয-যুমার ৩৯:৫৩-এ আল্লাহ বলেন, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে তারা যেন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়; আল্লাহ গুনাহ ক্ষমা করেন এবং তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

অতএব কোনো পাপের পর হতাশ হয়ে যাওয়া নয়; বরং তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই মুমিনের পথ।

৯. ভালো কাজ শুরু করার সময় আল্লাহকে স্মরণ করা

খাওয়া, পান করা, ঘরে প্রবেশ, বাইরে যাওয়া, যাত্রা শুরু—জীবনের বিভিন্ন কাজে আল্লাহকে স্মরণ করার অভ্যাস একজন মুসলিমের ঈমানি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিসমিল্লাহ বলা শুধু মুখের একটি শব্দ নয়; এটি মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে তার প্রতিটি কাজ আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়।

১০. খারাপ পরিবেশ ও পাপের পথ থেকে দূরে থাকা

শয়তান মানুষকে সাধারণত ধাপে ধাপে পাপের দিকে নিয়ে যায়। তাই এমন পরিবেশ, বন্ধুত্ব, অভ্যাস বা বিষয়বস্তু থেকে দূরে থাকা জরুরি, যা মানুষকে ধীরে ধীরে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

নিজের চোখ, কান, জিহ্বা এবং অন্তরকে নিয়ন্ত্রণ করা শয়তানের প্ররোচনা প্রতিহত করার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

ইবলিশের শেষ পরিণতি

ভিডিও স্ক্রিপ্টে ইবলিশের শেষ সময়ের একটি ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মৃত্যুর সময় সে মালাকুল মউতের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত এমন স্থানে পৌঁছে যায়, যেটিকে সে সারাজীবন এড়িয়ে চলেছিল। এরপর তার ভয়ঙ্কর চিৎকারের মাধ্যমে তার পরিণতির বর্ণনা করা হয়েছে।

এই নির্দিষ্ট কাহিনির বিস্তারিত অংশগুলোকে এখানে কুরআনের সরাসরি বর্ণনা বা সহিহ হাদিসের নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। তবে ইবলিশের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে কুরআনের বক্তব্য স্পষ্ট—তার অবাধ্যতা ও শয়তানি পথের শেষ পরিণতি শাস্তি।

কুরআনের নিশ্চিত শিক্ষার আলোকে ইবলিশের কাহিনির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—আল্লাহর আদেশের সামনে অহংকার করা মানুষের জন্য ধ্বংসের কারণ হতে পারে।

ইবলিশ বনাম মানুষ: আসল শিক্ষা

ইবলিশ মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। কিন্তু শয়তানের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। মানুষের ওপর তার প্ররোচনা রয়েছে, কিন্তু মানুষকে জোর করে পাপ করানোর স্বাধীন ক্ষমতা তার নেই—তাই মুমিনের কর্তব্য হলো নিজের ইচ্ছাশক্তি ও ঈমানকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে থাকা।

মানুষ ভুল করতে পারে। কিন্তু তওবা করতে পারে।

মানুষ দুর্বল হতে পারে। কিন্তু আল্লাহর সাহায্য চাইতে পারে।

মানুষ কুমন্ত্রণায় আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু সেই কুমন্ত্রণা অনুসরণ না করে আল্লাহর কাছে আশ্রয় নিতে পারে।

এ কারণেই শয়তানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী লড়াই হলো আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করা।

উপসংহার

শয়তানের কাহিনি আমাদের শুধু ভয় দেখানোর জন্য নয়; বরং সতর্ক করার জন্য।

ইবলিশের পতনের কেন্দ্রে ছিল অহংকার। মানুষের পরীক্ষার কেন্দ্রে রয়েছে আনুগত্য। শয়তান মানুষকে ভুল পথে ডাকবে, কুমন্ত্রণা দেবে, পাপকে আকর্ষণীয় করে তুলবে এবং কখনো কখনো মানুষকে আল্লাহর রহমত সম্পর্কে হতাশ করার চেষ্টা করবে।

কিন্তু একজন মুমিনের জন্য পথ পরিষ্কার।

আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। নামাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কুরআন পড়তে হবে। জিকির করতে হবে। আয়াতুল কুরসি পড়তে হবে। সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তে হবে। পাপ হয়ে গেলে তওবা করতে হবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—আল্লাহর রহমত থেকে কখনো হতাশ হওয়া যাবে না।

কারণ কুরআনের বার্তা হলো, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হতে এবং তাঁর দিকে ফিরে আসতে।

শয়তানের প্ররোচনা যতই কঠিন হোক, মুমিনের জন্য আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার দরজা খোলা থাকে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হেফাজত করুন, ঈমানের ওপর অটল রাখুন এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স

সূরা ক্বাফ, আয়াত ১৬ — মানুষের অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞান
Quran.com — Qaf 50:16

সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৩৪ — ইবলিশের সিজদা অস্বীকার ও অহংকার
Quran.com — Al-Baqarah 2:34

সহিহ বুখারি ৬০৮ — আজান হলে শয়তানের পলায়ন
Sunnah.com — Sahih al-Bukhari 608

সহিহ বুখারি ৫০০৯ — রাতে সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত
Sunnah.com — Sahih al-Bukhari 5009

সহিহ বুখারি ২৩১১ — আয়াতুল কুরসি ও শয়তানের ঘটনা
Sunnah.com — Sahih al-Bukhari 2311

সূরা আন-নাস — শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয়
Quran.com — Surah An-Nas

সূরা আয-যুমার, আয়াত ৫৩ — আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া
Quran.com — Az-Zumar 39:53

👁 275 views

Mamunur RASHID

Mamunur RASHID is the editor and writer of July36 Chronicles, an independent digital publication covering Bangladesh, international affairs, history, society and current events. He focuses on presenting informative, contextual and responsibly sourced stories for Bengali-speaking readers.