LIVE
Bangladesh

ওসমান হাদি হত্যা: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন সঞ্জয় ও ফয়সাল

Author: Published: Updated: 14/09/2026 Comments: 0 Estimated reading time: 7 min read Views: 38 views
ওসমান হাদি হত্যা: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন সঞ্জয় ও ফয়সাল

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া এই জবানবন্দির মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গতিবিধি, পালিয়ে যাওয়ার সহযোগিতা এবং ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্তকারীদের হাতে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। তবে আইনের দৃষ্টিতে জবানবন্দি মানেই অপরাধ প্রমাণ হয়ে যাওয়া নয়; শেষ পর্যন্ত আদালতে উপস্থাপিত সব প্রমাণের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারিত হবে।

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের শুরু যেভাবে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের আলোচিত রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোড এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয়। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলিতে গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর হত্যাচেষ্টা মামলা হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

হাদির ওপর হামলার ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা হিসেবে নয়, বরং এর সম্ভাব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, পরিকল্পনাকারী, হামলাকারী, সহযোগী এবং হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ার পুরো নেটওয়ার্কের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সঞ্জয় ও ফয়সালের জবানবন্দি কেন গুরুত্বপূর্ণ

হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল রিমান্ড শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি তাঁদের জবানবন্দি আদালতে রেকর্ড করা হয় এবং পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

তদন্তের দিক থেকে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো—সঞ্জয় ও ফয়সাল দুজনের বিরুদ্ধেই হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান অভিযুক্তদের পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ ছিল। ফলে তাঁদের বক্তব্য তদন্তকারীদের কাছে হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঞ্জয় চিসিম ও সিবিউন দিউকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অন্যদিকে মো. ফয়সালকে নরসিংদী থেকে আটক করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের কথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।

হাদিকে হত্যার পর পালানোর অভিযোগ

তদন্তে সামনে আসা তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখ ঢাকার বাইরে চলে যান এবং পরে ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছান। ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তাঁদের ভারত পালিয়ে যেতে সহায়তা করার সঙ্গে সীমান্ত এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন।

এই পালানোর নেটওয়ার্কে সঞ্জয় চিসিমের নামও আসে। তদন্তকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করেছিলেন। ফলে সঞ্জয়ের জবানবন্দি শুধু তাঁর নিজের ভূমিকা নয়, বরং হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান অভিযুক্তদের গতিবিধি সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

অন্যদিকে মো. ফয়সালের বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর রিমান্ড ও গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্তকারীরা অস্ত্র, যোগাযোগ এবং হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক অনুসন্ধান করেছেন বলে সংবাদ প্রতিবেদনে এসেছে।

১৬৪ ধারার জবানবন্দি আসলে কী?

বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত চলাকালে কোনো ব্যক্তির বক্তব্য বা স্বীকারোক্তি রেকর্ড করতে পারেন। আইন অনুযায়ী, স্বীকারোক্তি রেকর্ড করার আগে ম্যাজিস্ট্রেটকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানাতে হয় যে তিনি স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য নন এবং তিনি স্বীকারোক্তি দিলে সেটি তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। একই সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটকে নিশ্চিত হতে হয় যে বক্তব্যটি স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় দেওয়া বক্তব্য এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এক বিষয় নয়। আইন এ দুটির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রেখেছে।

বাংলাদেশের Evidence Act-এর ২৫ ও ২৬ ধারাতেও পুলিশ কর্মকর্তার কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। সাধারণভাবে পুলিশ কর্মকর্তার কাছে দেওয়া confession সরাসরি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; তবে আইন অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে রেকর্ড করা বক্তব্যের আলাদা অবস্থান রয়েছে।

তাই সঞ্জয় ও ফয়সালের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর প্রতিটি অংশ আদালতে কীভাবে মূল্যায়িত হবে, তা নির্ভর করবে অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে এর সামঞ্জস্যের ওপর।

মামলায় একের পর এক জবানবন্দি

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় শুধু সঞ্জয় ও ফয়সাল নয়, আরও কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা এবং শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপুসহ কয়েকজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আমিনুল ইসলাম রাজুও পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এর ফলে তদন্তকারীদের হাতে একই ঘটনার বিষয়ে একাধিক আসামির বক্তব্য আসে। তবে একাধিক আসামি একই ধরনের বক্তব্য দিলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ হয়ে যায় না। তদন্তকারীদের দায়িত্ব হলো এসব বক্তব্যের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, আর্থিক লেনদেন, অস্ত্র ও অন্যান্য আলামতের মিল খুঁজে বের করা।

তদন্তে সিসিটিভি, অস্ত্র ও ফরেনসিক তথ্য

হাদি হত্যা মামলার তদন্তে শুধু আসামিদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা হয়নি। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য পর্যালোচনা করেছেন বলে পরবর্তী তদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আদালতে কোনো মামলার গ্রহণযোগ্যতা কেবল স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে না। ঘটনার সময় কে কোথায় ছিলেন, কার সঙ্গে কার যোগাযোগ ছিল, ব্যবহৃত যানবাহন কোথায় গিয়েছিল, অস্ত্র কোথা থেকে এসেছে এবং হত্যার পর অভিযুক্তরা কীভাবে পালিয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা?

মামলার তদন্তে পরে আরও বিস্তৃত একটি চিত্র সামনে আসে। তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, ওসমান হাদি রাজনৈতিক কারণে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরোধিতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন। পরবর্তী অভিযোগপত্রসংক্রান্ত প্রতিবেদনে ডিবি তদন্তের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, হামলা এবং সহযোগিতার বিভিন্ন স্তরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তদন্ত সংস্থার বক্তব্য এবং আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত তথ্যকে একই বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। অভিযোগপত্রে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়, আদালতে সেই অভিযোগ প্রমাণের জন্য রাষ্ট্রপক্ষকে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়।

এই কারণে সঞ্জয় ও ফয়সালের জবানবন্দি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তদন্তের অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য পরীক্ষা করাই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

মামলায় গ্রেপ্তার ও অভিযোগপত্রের অগ্রগতি

প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, হাদি হত্যা মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি হামলা, পরিকল্পনা, সহযোগিতা এবং হত্যার পর পালিয়ে যেতে সহায়তার মতো বিভিন্ন ভূমিকা আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের কয়েকজন তখনও দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন বলে তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য ছিল। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনগত প্রক্রিয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মামলার তদন্ত যত এগিয়েছে, হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে শুধু সরাসরি গুলি চালানোর ঘটনাই নয়, বরং তার আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় এসেছে।

বিচার পাওয়ার প্রশ্নে এখন সামনে কী?

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর পরিবার, সহকর্মী, রাজনৈতিক অনুসারী এবং বৃহত্তর সমাজের একটি অংশ দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে।

তবে দ্রুত বিচার এবং ন্যায়বিচার—দুটিকে একই সঙ্গে নিশ্চিত করা জরুরি। একটি হত্যা মামলায় অপরাধীদের শাস্তি যেমন প্রয়োজন, তেমনি নিরপরাধ কাউকে যেন অভিযুক্ত করা না হয় সেটিও আইনের মৌলিক দাবি।

সঞ্জয় ও ফয়সালের জবানবন্দি তদন্তকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু আদালতে শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থাকবে—জবানবন্দিতে বলা তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য, সেগুলো অন্য প্রমাণের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আইনগতভাবে কতটা প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়েছে।

ওসমান হাদি হত্যার বৃহত্তর রাজনৈতিক তাৎপর্য

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—রাজনৈতিক মতভেদ কি সহিংসতার মাধ্যমে মোকাবিলা করা হবে, নাকি গণতান্ত্রিক ও আইনগত পদ্ধতিতে?

একজন রাজনৈতিক কর্মী বা জনপরিচিত ব্যক্তিকে তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান বা কর্মকাণ্ডের কারণে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেটি কেবল একটি ব্যক্তিগত অপরাধ থাকে না; এটি রাজনৈতিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের জন্যও গুরুতর সংকেত।

এই কারণে হাদি হত্যা মামলার বিচার শুধু একটি পরিবারের ন্যায়বিচারের প্রশ্ন নয়। এটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কতটা কার্যকর অবস্থান নিতে পারে, তারও একটি পরীক্ষা।

উপসংহার

সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ডের পরের গতিপথ এবং অভিযুক্তদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তদন্তকারীদের হাতে নতুন তথ্য এসেছে। একই সঙ্গে মামলায় আরও কয়েকজন আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি, অস্ত্র উদ্ধার, সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক তথ্য ও অন্যান্য আলামত তদন্তকে একটি বিস্তৃত কাঠামো দিয়েছে।

তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি—আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ১৬৪ ধারার জবানবন্দি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় রেকর্ড করা হয় এবং এর স্বেচ্ছাস্বীকৃতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত আদালত জবানবন্দির পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষ্য, আলামত, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রমাণ মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত নেবে।

ওসমান হাদি হত্যার প্রকৃত সত্য, কার কী ভূমিকা ছিল এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা ছিল—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াতেই প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার তখনই অর্থবহ হবে, যখন অপরাধী যে-ই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনা হবে। ওসমান হাদি হত্যার বিচার তাই শুধু একটি হত্যার বিচার নয়—এটি বাংলাদেশে আইনের শাসন, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং নাগরিকের নিরাপত্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

তথ্যসূত্র / Reference Links

১. প্রথম আলো — ওসমান হাদিকে হত্যা: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন সঞ্জয় ও ফয়সাল
প্রথম আলো প্রতিবেদন

২. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর — হাদি হত্যা: আদালতে ‘দোষ স্বীকার’ করে সঞ্জয় ও ফয়সালের জবানবন্দি
বিডিনিউজ২৪ প্রতিবেদন

৩. আরটিভি — ওসমান হাদি হত্যা: সঞ্জয় ও ফয়সালের দায় স্বীকার
আরটিভি প্রতিবেদন

৪. প্রথম আলো — ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, মূল ৩ আসামি ভারতে পলাতক
অভিযোগপত্র সংক্রান্ত প্রতিবেদন

৫. আজকের পত্রিকা — হাদি হত্যায় আমিনুল ইসলাম রাজুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
আজকের পত্রিকা প্রতিবেদন

৬. বাংলাদেশ আইন মন্ত্রণালয় — Code of Criminal Procedure, 1898, Section 164
ফৌজদারি কার্যবিধি—ধারা ১৬৪

৭. বাংলাদেশ আইন মন্ত্রণালয় — Evidence Act, 1872
Evidence Act—Confession সম্পর্কিত বিধান

👁 38 views

Mamunur RASHID

Mamunur RASHID is the editor and writer of July36 Chronicles, an independent digital publication covering Bangladesh, international affairs, history, society and current events. He focuses on presenting informative, contextual and responsibly sourced stories for Bengali-speaking readers.

Leave a Comment