৩৬ জুলাইয়ের প্রতীকে নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসন, চিকিৎসা, পরিবহন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও জবাবদিহিকে সামনে রেখে ১২ মাসে ৩৬ সংস্কারের প্রতিশ্রুতিঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু নির্বাচন বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নির্বাচন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু হলে ক্যাম্পাসে আবারও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি, প্রত্যাশা, রাজনৈতিক অবস্থান ও সংস্কারের প্রস্তাব সামনে আসে।
এই নির্বাচনী আবহে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা করে। প্যানেলটি তাদের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনাকে ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের ঐতিহাসিক ৩৬ দিনের প্রতীকের সঙ্গে যুক্ত করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১২ মাসে ৩৬টি সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে এই ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে।
ইশতেহারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—৩৬টি অঙ্গীকারের পাশাপাশি তারা ছয়টি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং ছয়টি বিষয়ে ‘না’ বলার অবস্থানও তুলে ধরেছে।
‘হ্যাঁ’ অংশে রয়েছে নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসনসংকটের সমাধান, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসাসুবিধা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, উন্নত পরিবহন এবং ক্যারিয়ার গঠনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা।
অন্যদিকে ‘না’ অংশে রয়েছে কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি, নির্যাতন ও সহিংসতা, গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি, বৈষম্যমূলক আচরণ, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা এবং ইসলামফোবিয়া ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা।
এই ইশতেহার তাই শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়; বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক জীবন, শিক্ষা, প্রশাসনিক সেবা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, গবেষণা, ক্যারিয়ার এবং ক্যাম্পাস সংস্কৃতি নিয়ে একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
৩৬ জুলাইয়ের সঙ্গে ৩৬ অঙ্গীকারের প্রতীকী সম্পর্ক
‘৩৬ জুলাই’ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি প্রতীকী ধারণা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের ধারাবাহিকতা এবং ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে এই শব্দবন্ধটি পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বয়ানে ব্যবহৃত হয়েছে।
ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট তাদের ৩৬ দফা প্রতিশ্রুতির সংখ্যাকে সেই প্রতীকী ধারণার সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্যানেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ৩৬ জুলাইকে সামনে রেখে তারা ৩৬টি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এবং মাসভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সেগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি ছিল প্রতি মাসে তিনটি করে সংস্কার করার।
অর্থাৎ ১২ মাসে ৩টি করে মোট ৩৬টি সংস্কার।
এই পরিকল্পনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো সময়সীমা নির্ধারণের চেষ্টা। সাধারণ নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক সময় লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষার কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি তুলনামূলকভাবে বেশি জবাবদিহির সুযোগ তৈরি করে।
তবে কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মূল্যায়ন করতে হলে পরবর্তীতে বাস্তব অগ্রগতি, প্রশাসনিক অনুমোদন, বাজেট, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন এবং বাস্তবায়নের ফলাফল বিবেচনা করতে হবে।
ছয়টি ‘হ্যাঁ’: শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সমস্যাকে সামনে আনা
ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট তাদের ইশতেহারে ছয়টি বিষয়কে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
প্রথমত, নিরাপদ ক্যাম্পাস।
দ্বিতীয়ত, আবাসনসংকটের সমাধান।
তৃতীয়ত, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা।
চতুর্থত, চিকিৎসাসুবিধা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার।
পঞ্চমত, উন্নত পরিবহন।
ষষ্ঠত, ক্যারিয়ার গঠনে পর্যাপ্ত তথ্য ও সেবা।
এই ছয়টি বিষয়কে দেখলে বোঝা যায়, ইশতেহারের একটি বড় অংশ সরাসরি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
একজন শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হলো থাকার জায়গা, সাশ্রয়ী খাবার, চিকিৎসা, যাতায়াত এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি।
অর্থাৎ ইশতেহারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, জীবনমান এবং ভবিষ্যৎ।
প্রথম বর্ষ থেকেই বৈধ আবাসিক সিটের প্রতিশ্রুতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশেষ করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আবাসন নিয়ে নানা ধরনের সমস্যা ও অনিশ্চয়তার কথা বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হয়েছে।
ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ইশতেহারে প্রথম বর্ষ থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বৈধ সিট নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
এই প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব শুধু আবাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
একজন শিক্ষার্থী যদি আবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন, তাহলে তাঁর পড়াশোনা, মানসিক স্বস্তি, নিরাপত্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা প্রভাবিত হতে পারে।
তাই আবাসনসংকট সমাধান ডাকসুর জন্য শুধু একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থীর মৌলিক জীবনমানের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রশ্ন।
তবে বাস্তবে নতুন সিট তৈরি, পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার, হলের ধারণক্ষমতা, বাজেট এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত—সবকিছুই এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান
ইশতেহারে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থানের কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গণরুম ও গেস্টরুম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।
ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট এটিকে তাদের ‘না’ তালিকার অন্যতম বিষয় করেছে।
এই অবস্থানের তাৎপর্য হলো, শিক্ষার্থীদের আবাসিক জীবনকে দলীয় প্রভাবের বাইরে রাখার প্রশ্নটি নির্বাচনী আলোচনায় এসেছে।
তবে একটি সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে শুধু ঘোষণা যথেষ্ট নয়।
এর জন্য প্রয়োজন হল প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা, লিখিত নীতিমালা, অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাস্তব ব্যবস্থা।
নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় একাধিক প্রস্তাব
ইশতেহারে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একাধিক নির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ পরিবহন, ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মচারীর সংখ্যা যথাসম্ভব কমানো, প্রক্টরিয়াল দলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নারী সদস্য নিয়োগ, ছাত্রী হলে প্রবেশসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা, মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা এবং কমনরুমে নারী কর্মচারী নিয়োগ।
এ ছাড়া যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও বলা হয়েছে।
এই প্রস্তাবগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে শুধু নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা দিয়ে না দেখে প্রশাসনিক কাঠামো, পরিবহন, আবাসন ও অভিযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু নীতিমালা নয়, অভিযোগ করার পর দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাব্যবস্থায় সংস্কারের প্রস্তাব
ইশতেহারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার আধুনিকীকরণের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং দেশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চিকিৎসা ব্যয়ে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রয়েছে।
এটি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে হঠাৎ অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয়বহুল চিকিৎসা একটি বড় চাপ হতে পারে।
তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বাইরের হাসপাতালের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা গড়ে তোলার প্রস্তাবটি একটি বিস্তৃত স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর ধারণা তুলে ধরে।
মানসিক স্বাস্থ্যও এসেছে ইশতেহারে
শুধু শারীরিক চিকিৎসা নয়, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিংয়ের পরিসর বাড়ানোর কথাও ইশতেহারে বলা হয়েছে।
এটি বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
পড়াশোনার চাপ, আবাসন সমস্যা, পারিবারিক চাপ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে উদ্বেগ এবং সামাজিক সম্পর্কের নানা জটিলতা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই কাউন্সেলিং সেবা থাকলেই যথেষ্ট নয়; সেটি সহজলভ্য, গোপনীয় এবং শিক্ষার্থীবান্ধব হওয়াও প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যকর খাবার ও ক্যানটিন সংস্কার
হল ও অন্যান্য ক্যানটিন-ক্যাফেটেরিয়ায় পুষ্টিবিদের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ এবং তিন মাস অন্তর খাবারের মান পরীক্ষা করার প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে রয়েছে।
এই প্রস্তাবটি সরাসরি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে কাটান। ফলে খাবারের মান ও মূল্য তাদের জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
খাবারের মান পরীক্ষার একটি নিয়মিত ব্যবস্থা থাকলে তার ফলাফল প্রকাশ্য করা, অভিযোগ গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে সরবরাহকারী পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোও কার্যকর করা প্রয়োজন হতে পারে।
লাইব্রেরি ও পাঠের পরিবেশ সম্প্রসারণ
ইশতেহারে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, বিজ্ঞান লাইব্রেরি, হল লাইব্রেরি, পাঠকক্ষ এবং বিভাগের সেমিনার কক্ষ সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য লাইব্রেরি ও গবেষণা অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান শুধু শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না।
গবেষণার সুযোগ, বই ও জার্নালের প্রাপ্যতা, নীরব পাঠের পরিবেশ, ডিজিটাল রিসোর্স এবং গবেষণাগারের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।
এই জায়গায় ইশতেহারে গবেষণাবিষয়ক কর্মশালা এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণায় যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।
শিক্ষক মূল্যায়ন ও মেন্টরশিপ
ইশতেহারে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে ‘মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম’ চালুর কথা বলা হয়েছে।
মেন্টরশিপ কার্যকর হলে একজন শিক্ষার্থী শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা নয়, গবেষণা, উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত একাডেমিক পরিকল্পনা নিয়েও দিকনির্দেশনা পেতে পারেন।
তবে এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ওয়ান-স্টপ সেবা
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রয়োজন হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, আবেদন, স্কলারশিপ, গবেষণা প্রস্তাব, ভাষা পরীক্ষা, ভিসা প্রক্রিয়া—সবকিছু নিয়ে আলাদা আলাদা জায়গায় তথ্য খুঁজতে হয়।
ইশতেহারে উচ্চশিক্ষায় বিদেশে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ক্যারিয়ার ও সফট স্কিল
ইশতেহারে ক্যারিয়ার গঠনে পর্যাপ্ত তথ্য ও সেবা এবং সফট স্কিল বাড়ানোর জন্য ওয়ার্কশপ আয়োজনের কথাও বলা হয়েছে।
বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক ফলাফল অনেক ক্ষেত্রেই যথেষ্ট নয়।
যোগাযোগ দক্ষতা।
দলগত কাজ।
উপস্থাপনা।
সমস্যা সমাধান।
সময় ব্যবস্থাপনা।
ইন্টারভিউ দক্ষতা।
ডিজিটাল দক্ষতা।
এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্যারিয়ার প্রস্তুতিকে একাডেমিক শিক্ষার পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাবটি ইশতেহারে জায়গা পেয়েছে।
অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার পরিকল্পনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন।
ইশতেহারে অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
এ ধরনের নেটওয়ার্ক থেকে শিক্ষার্থীরা মেন্টরশিপ, ইন্টার্নশিপ, ক্যারিয়ার পরামর্শ, গবেষণা সহযোগিতা এবং পেশাগত যোগাযোগের সুযোগ পেতে পারেন।
তবে এ ক্ষেত্রেও প্রয়োজন একটি স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো।
ধর্মীয় ও উপাসনালয়ের অবকাঠামো
ইশতেহারে কেন্দ্রীয় মসজিদ, হল মসজিদ, মন্দির এবং অন্যান্য উপাসনালয়ের অবকাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়নের কথাও বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। তাই ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রশ্নটি ক্যাম্পাসের অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত।
শারীরিকভাবে অক্ষম শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি
শারীরিকভাবে অক্ষম শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি’ চালুর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, পরিবহন, আবাসন ও শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষ প্রয়োজনসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করাও একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ।
বহিরাগত যান, হকার ও ক্যাম্পাস ব্যবস্থাপনা
ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য বহিরাগত যান নিয়ন্ত্রণ, ভাসমান হকার ও ভবঘুরেদের উচ্ছেদের কথাও ইশতেহারে বলা হয়েছে।
এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবশ্য মানবিকতা, আইন, স্থানীয় জীবিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা—সব বিষয় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
ক্যাম্পাসকে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব রাখতে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত যেন নির্বিচারে মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রশ্ন।
যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধ
ইশতেহারে যৌন হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
ডিজিটাল যুগে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা শুধু ক্যাম্পাসের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমান, ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, ভুয়া অ্যাকাউন্ট, হুমকি, ছবি বিকৃত করে প্রচার এবং অনলাইন হয়রানিও শিক্ষার্থীদের জীবনে বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে।
এ কারণে সাইবার নিরাপত্তা ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য অভিযোগ গ্রহণ, প্রমাণ সংরক্ষণ, কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনে আইনগত সহায়তার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
‘গ্রিভেন্স রেসপন্স টিম’ ও ‘ভিকটিম সাপোর্ট সেল’
হলভিত্তিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য ‘গ্রিভেন্স রেসপন্স টিম’ এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ‘ভিকটিম সাপোর্ট সেল’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।
এই দুটি ধারণা কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি হতে পারে।
তবে অভিযোগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
অভিযোগকারীর গোপনীয়তা।
দ্রুত সাড়া।
নিরপেক্ষ তদন্ত।
লিখিত সিদ্ধান্ত।
আপিলের সুযোগ।
এবং অভিযোগের অপব্যবহার ঠেকাতে যথাযথ প্রক্রিয়া।
ছয়টি ‘না’: রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতির প্রশ্ন
ইশতেহারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ছয়টি ‘না’।
প্যানেলটি কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি, নির্যাতন ও সহিংসতা, গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি, বৈষম্যমূলক আচরণ, মাদক-ছিনতাই-চাঁদাবাজি, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা এবং ইসলামফোবিয়া ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা বলেছে।
এখানে ইশতেহারটি মূলত একটি নির্দিষ্ট ক্যাম্পাস সংস্কৃতির পরিবর্তনের কথা বলছে।
তবে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু ছাত্রসংসদের ভূমিকা যথেষ্ট নাও হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতি মাসে তিনটি সংস্কার: বাস্তবায়নের বড় পরীক্ষা
জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ বলেছেন, প্রতি মাসে তিনটি করে ১২ মাসে ৩৬টি সংস্কার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই সময়ভিত্তিক পরিকল্পনাই ইশতেহারটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
কারণ একটি প্রতিশ্রুতির মূল্যায়ন তখনই সম্ভব যখন তার জন্য একটি পরিমাপযোগ্য সময়সীমা থাকে।
ধরা যাক, প্রথম তিন মাসে তিনটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন হবে—
কোন তিনটি কাজ শুরু হলো?
কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো?
কতজন শিক্ষার্থী উপকৃত হলো?
কত টাকা ব্যয় হলো?
কোন বাধা তৈরি হলো?
কাজটি সম্পূর্ণ হয়েছে, নাকি শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?
এই ধরনের প্রশ্নই ভবিষ্যতে ইশতেহার বাস্তবায়নের জবাবদিহির ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
ডাকসুর ভূমিকা কতটা কার্যকর হতে পারে?
এখানে ডাকসুর সাংগঠনিক ক্ষমতা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ক্ষমতার পার্থক্য বোঝা জরুরি।
ডাকসু শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, দাবি উত্থাপন করতে পারে, বিভিন্ন সেবা ও কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারে এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারে।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ও আইনগত কাঠামোর অধীন।
তাই একটি নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে ডাকসুর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে।
এই বাস্তবতাই ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতির ভবিষ্যৎ মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নির্বাচনী পোর্টাল অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ২৯ জুলাই ঘোষণা করা হয় এবং ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত তালিকায় ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
অর্থাৎ ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচন ছিল দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।
এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন প্যানেলের ইশতেহারও শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরার প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে।
ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়ন: আসল পরীক্ষা
একটি ইশতেহার যত বিস্তৃতই হোক, তার প্রকৃত মূল্যায়ন হয় বাস্তবায়নের মাধ্যমে।
৩৬টি প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
প্রথমত, কোন প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, কোনগুলো সম্পন্ন হয়েছে।
তৃতীয়ত, কোনগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসনিক বাধা এসেছে।
চতুর্থত, প্রতিশ্রুতির জন্য কত অর্থ প্রয়োজন হয়েছে।
পঞ্চমত, কতজন শিক্ষার্থী বাস্তবে সুবিধা পেয়েছেন।
ষষ্ঠত, শিক্ষার্থীরা সেই পরিবর্তনকে কীভাবে মূল্যায়ন করেছেন।
এই তথ্যগুলো প্রকাশ্যে থাকলে ইশতেহারটি শুধু নির্বাচনী দলিল না হয়ে একটি জবাবদিহিমূলক কর্মপরিকল্পনায় পরিণত হতে পারে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের সেবা কতটা নিশ্চিত হবে?
ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট নিজেদের একটি ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল হিসেবে নির্বাচনে উপস্থাপন করেছে।
তবে ডাকসুর মতো একটি ছাত্রসংসদের কার্যকারিতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এটি কি সব মত, সংগঠন ও পরিচয়ের শিক্ষার্থীদের সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে?
প্রতিনিধিত্বশীল ছাত্রসংসদের মূল চ্যালেঞ্জ এখানেই।
যে শিক্ষার্থী প্যানেলটিকে সমর্থন করেন, তাঁর অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি যিনি সমর্থন করেন না তাঁর অধিকারও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
একটি কার্যকর ছাত্রসংসদকে তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের সাধারণ স্বার্থ—শিক্ষা, আবাসন, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, পরিবহন ও ক্যারিয়ার—এসব বিষয়ে কাজ করতে হয়।
৩৬ অঙ্গীকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে জবাবদিহি
ইশতেহারে ১২ মাসের কর্মপরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।
তাই এর বাস্তব মূল্যায়নের জন্য মাসভিত্তিক অগ্রগতি প্রকাশ করা যেতে পারে।
কোন কাজের জন্য কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
কোন প্রশাসনিক দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে?
কী সিদ্ধান্ত হয়েছে?
কী বাধা এসেছে?
কোন কাজ শেষ হয়েছে?
এই তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিনিধিদের কাজ সরাসরি মূল্যায়ন করার সুযোগ পাবেন।
একটি ছাত্রসংসদের গণতান্ত্রিক শক্তি শুধু নির্বাচনে জয় বা পরাজয়ে নয়।
তার প্রকৃত শক্তি হলো—নির্বাচনের পরও শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহি থাকা।
জুলাইয়ের প্রতীক থেকে ক্যাম্পাস সংস্কার
৩৬ জুলাইয়ের প্রতীক ব্যবহার করে ৩৬টি অঙ্গীকার ঘোষণা করা রাজনৈতিকভাবে একটি প্রতীকী যোগাযোগ কৌশলও বটে।
কিন্তু প্রতীকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে বাস্তব ফলাফল।
নিরাপদ ক্যাম্পাস কি সত্যিই নিরাপদ হলো?
আবাসনসংকট কি কমল?
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা কি বৈধ সিট পেল?
খাবারের মান কি উন্নত হলো?
নারী শিক্ষার্থীরা কি নিরাপদ পরিবহন পেলেন?
মেডিকেল সেন্টারের সেবা কি আধুনিক হলো?
ক্যারিয়ার সেবা কি কার্যকর হলো?
গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বাস্তব পরিবর্তন কি হলো?
প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কি কমল?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই শেষ পর্যন্ত ৩৬ অঙ্গীকারের বাস্তব মূল্য নির্ধারণ করবে।
উপসংহার
‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’-এর ৩৬ দফা ইশতেহার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সমস্যা ও ক্যাম্পাস সংস্কারের বিভিন্ন দিককে একসঙ্গে সামনে এনেছে।
নিরাপদ ক্যাম্পাস থেকে আবাসন।
স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে চিকিৎসা।
নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা থেকে মানসিক স্বাস্থ্য।
লাইব্রেরি থেকে গবেষণা।
মেন্টরশিপ থেকে ক্যারিয়ার।
পরিবহন থেকে সাইবার নিরাপত্তা।
অভিযোগ ব্যবস্থাপনা থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার।
সব মিলিয়ে এটি একটি বিস্তৃত ক্যাম্পাস সংস্কারের রূপরেখা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
তবে একটি ইশতেহারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা তার ভাষায় নয়, বাস্তবায়নে।
৩৬টি অঙ্গীকারকে ১২ মাসে বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেটি বাস্তবায়িত হলে তার মূল্যায়নও হওয়া উচিত পরিমাপযোগ্য ফলাফলের ভিত্তিতে।
ডাকসুর নির্বাচনী রাজনীতিতে দলীয় পরিচয়, আদর্শ ও রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রশ্নগুলো অনেক ক্ষেত্রে দলীয় সীমার বাইরে।
একটি নিরাপদ হল সবার প্রয়োজন।
একটি ভালো লাইব্রেরি সবার প্রয়োজন।
মানসম্মত চিকিৎসা সবার প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যকর খাবার সবার প্রয়োজন।
নিরাপদ পরিবহন সবার প্রয়োজন।
ন্যায্য প্রশাসনিক সেবা সবার প্রয়োজন।
এই জায়গাতেই একটি ছাত্রসংসদের কার্যকারিতা সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হতে পারে।
৩৬ জুলাইয়ের প্রতীক থেকে ৩৬ অঙ্গীকার—এই যাত্রার রাজনৈতিক তাৎপর্য যতই থাকুক, শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা দেখতে চাইবেন প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবে রূপ নিল।
কারণ নির্বাচনী ইশতেহারের সবচেয়ে শক্তিশালী শব্দ হলো প্রতিশ্রুতি নয়—জবাবদিহি।
আর ১২ মাস শেষে সেই জবাবদিহির প্রশ্নই বলে দেবে ৩৬ অঙ্গীকার কতটা বাস্তব সংস্কারে পরিণত হয়েছিল।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স
১. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর — ডাকসু নির্বাচন: ৩৬ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ছাত্রশিবিরের প্যানেলের
৩৬ দফা, ছয়টি ‘হ্যাঁ’, ছয়টি ‘না’, ১২ মাসে ৩৬ সংস্কার এবং প্যানেলের প্রার্থীদের বক্তব্য সম্পর্কে মূল প্রতিবেদন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের মূল প্রতিবেদন
২. প্রথম আলো — শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের
বিভিন্ন প্যানেলের ইশতেহার এবং ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ৩৬ দফার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রতিবেদন।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন
৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় — ডাকসু নির্বাচন ২০২৫-এর অফিসিয়াল পোর্টাল
নির্বাচনের তফসিল, প্রার্থী, নোটিশ ও অন্যান্য সরকারি তথ্যের প্রধান উৎস।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ডাকসু নির্বাচন পোর্টাল
৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় — ডাকসু নির্বাচন ২০২৫-এর তফসিল
২৯ জুলাই ২০২৫ তফসিল ঘোষণা এবং ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ভোট গ্রহণের সরকারি তথ্য।
ডাকসু নির্বাচন ২০২৫-এর সরকারি তফসিল
৫. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় — ডাকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা
২০২৫ সালের নির্বাচনে ৪৭১ জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার তথ্য।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও তথ্য
৬. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় — ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের সংবিধান
ডাকসুর উদ্দেশ্য, সদস্যপদ, নির্বাচন পদ্ধতি ও সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নথি।
ডাকসু ২০২৫ সংবিধান
৭. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর — ডাকসুতে শিবিরের ভিপি-জিএস-এজিএসে বড় জয়
২০২৫ সালের নির্বাচনের ফলাফল এবং ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের শীর্ষ প্রার্থীদের ফলাফল সম্পর্কে প্রতিবেদন।
ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল সংক্রান্ত প্রতিবেদন
৮. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় — ২০২৫ ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফলাফল
