LIVE
Bangladesh

বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী, লালবাগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে: ডিবি

Author: Published: Updated: 13/09/2026 Comments: 0 Estimated reading time: 8 min read Views: 10 views
বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী, লালবাগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে: ডিবি

শিরীন শারমিন চৌধুরী সাবেক স্পিকার গ্রেপ্তার: লালবাগের মামলায় নতুন মোড়

জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে সংঘটিত সহিংসতা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগের তদন্তে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ—ডিবি—২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যা-চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত ওই দিন পুলিশের দুই দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তবে ঘটনাটির পরবর্তী আইনি অবস্থাটিও গুরুত্বপূর্ণ। ১২ এপ্রিল ২০২৬ ঢাকার একটি আদালত ওই মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জামিন দেন এবং সেদিনই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। অর্থাৎ, গ্রেপ্তার হওয়া বা কোনো মামলায় আসামি হওয়া আদালতে অপরাধ প্রমাণের সমান নয়; তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ, বিচারিক কার্যক্রম এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই একজন আসামির আইনি দায় নির্ধারণ করে।

ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার, আত্মগোপনের দাবি ডিবির

ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, শিরীন শারমিন চৌধুরী দীর্ঘ সময় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত ধানমন্ডির একটি আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে ভোরে আটক করা হয়।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, ৭ এপ্রিল ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে তাঁকে ধানমন্ডির ৮/এ এলাকার একটি বাসা থেকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হয়।

এই গ্রেপ্তার বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। কারণ শিরীন শারমিন চৌধুরী শুধু আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্য নন; তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে ছিলেন।

লালবাগের মামলাটি কী?

শিরীন শারমিন চৌধুরীকে যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়, সেটি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার লালবাগ থানার আওতাধীন আজিমপুর এলাকায় সংঘটিত গুলিবর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৮ জুলাই ২০২৪ আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। মামলার বাদী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ করেন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশের পাশাপাশি চোখেও আঘাত লাগে এবং চিকিৎসার পর তাঁর বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মামলার নথি ও সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আশরাফুল ২০২৫ সালের ২৫ মে আদালতে মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে ১৭ জুলাই ২০২৫ লালবাগ থানায় অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বহু ব্যক্তিকে আসামি করা হয় এবং শিরীন শারমিন চৌধুরীর নামও আসামির তালিকায় ছিল।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা জরুরি—মামলার এজাহারে কারও নাম থাকা মানেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

ছয়টি মামলার তথ্য: ডিবির বক্তব্য

ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মোট ছয়টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলা হত্যা-সংক্রান্ত এবং অন্যগুলো আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

পরবর্তী প্রতিবেদনে জানা যায়, ছয়টি মামলার মধ্যে তিনটিতে তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের তথ্য ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আর বাকি তিনটি মামলা তদন্তাধীন ছিল।

এই তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা মানেই প্রতিটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি সমান শক্তিশালী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রতিটি মামলার অভিযোগ, সাক্ষ্য, নথি, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শিরীন শারমিনের অবস্থান

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। পরদিন রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। এর প্রায় এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ শিরীন শারমিন চৌধুরী জাতীয় সংসদের স্পিকার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS) ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে তাঁর দীর্ঘ মেয়াদ ছিল উল্লেখযোগ্য। সংসদের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ৩০ এপ্রিল ২০১৩ সালে প্রথমবার স্পিকার নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সংসদগুলোতেও এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৩ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেন। আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারি ইউনিয়নও তাঁকে বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে উল্লেখ করেছে।

জাতীয় সংসদের প্রথম নারী স্পিকার থেকে মামলার আসামি

শিরীন শারমিন চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ২০০৯ সালে সংসদে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

৩০ এপ্রিল ২০১৩ সালে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন। সে সময় তাঁর নির্বাচিত হওয়া ছিল বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। যে ব্যক্তি একসময় জাতীয় সংসদের অধিবেশন পরিচালনা করতেন, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, তিনিই পরবর্তীতে জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মামলায় আসামি হয়ে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ান।

এই পরিবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর তাৎপর্য বহন করে।

সেনানিবাসে আশ্রয়ের তালিকায় শিরীন শারমিনের নাম

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, সাবেক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ নিরাপত্তার জন্য দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

২০২৫ সালের ২২ মে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর—আইএসপিআর—৬২৬ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে। আইএসপিআরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে তাঁদের মানবিক কারণে সাময়িক আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকায় শিরীন শারমিন চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামও ছিল।

এই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। তবে সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া এবং কোনো ফৌজদারি মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়া—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আইএসপিআরও আশ্রয় দেওয়ার কারণ হিসেবে নিরাপত্তা ও মানবিক বিবেচনার কথা উল্লেখ করেছিল।

আদালতে রিমান্ড আবেদন, এরপর কারাগার

৭ এপ্রিল শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করে ডিবি তদন্তের স্বার্থে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পুলিশের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের অবস্থান ও মামলার প্রমাণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

তবে আদালত পুলিশের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেননি। একই সঙ্গে তাঁর জামিন আবেদনও ওই দিন মঞ্জুর হয়নি এবং তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এই পর্যায়টি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এটিকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আদালত তখন শুধু গ্রেপ্তার-পরবর্তী হেফাজত ও জামিনের প্রশ্ন বিবেচনা করেছিলেন; মামলার মূল অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত তখনও হয়নি।

পাঁচ দিনের মাথায় জামিন

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শিরীন শারমিন চৌধুরী দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকেননি।

১২ এপ্রিল ২০২৬ ঢাকার একটি আদালত তাঁকে জামিন দেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত ৫০ হাজার টাকার বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন এবং সেদিন সন্ধ্যায় তিনি কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

ফলে ঘটনাটির বর্তমান আইনি অবস্থাকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হলে বলতে হবে—তাঁকে ৭ এপ্রিল ২০২৬ লালবাগ থানার হত্যা-চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়, আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান এবং ১২ এপ্রিল তিনি জামিনে মুক্তি পান।

কেন এই গ্রেপ্তার রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ?

শিরীন শারমিন চৌধুরীর গ্রেপ্তারকে শুধু একটি ব্যক্তির গ্রেপ্তার হিসেবে দেখলে ঘটনাটির বৃহত্তর রাজনৈতিক তাৎপর্য বোঝা কঠিন।

জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—রাষ্ট্রের ক্ষমতাধর অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকালীন সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার কীভাবে হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ, প্রমাণ কতটা শক্তিশালী, সাক্ষ্য কতটা নির্ভরযোগ্য এবং বিচারিক প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ থাকে তার ওপর।

একদিকে আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবার ন্যায়বিচার দাবি করছে। অন্যদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া, ন্যায়বিচার এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই দুই বিষয়কে পরস্পরের বিপরীত হিসেবে দেখা উচিত নয়। ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্তের ন্যায্য বিচার—দুটিই আইনের শাসনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

জুলাই আন্দোলনের বিচার: সামনে বড় পরীক্ষা

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর পরিবর্তনের সূচনা করে। আন্দোলনের সময় গুলিবর্ষণ, মৃত্যু, আহত হওয়া, গ্রেপ্তার, সহিংসতা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়েছে।

শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিচারিক অগ্রগতি তাই শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না; এটি বৃহত্তর অর্থে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতারও পরীক্ষা।

তদন্তে যদি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আদালতের মাধ্যমে তার বিচার হওয়া উচিত। আবার প্রমাণ না থাকলে বা অভিযোগ প্রমাণিত না হলে আইন অনুযায়ী আসামির মুক্তির পথও খোলা থাকতে হবে।

কারণ রাজনৈতিক প্রতিশোধ এবং বিচার—দুটি এক জিনিস নয়।

ইতিহাসের কঠিন পরিহাস

শিরীন শারমিন চৌধুরীর রাজনৈতিক উত্থান এবং পরবর্তী পতনের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনীতির একটি প্রতীকী চিত্র হয়ে উঠেছে।

একসময় তিনি ছিলেন দেশের সংসদীয় ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ২০১৩ সালে প্রথম নারী স্পিকার হয়ে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি স্পিকার পদ হারান। পরবর্তীতে তাঁর নাম উঠে আসে একাধিক মামলায়। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে আদালতের আদেশে জামিনে মুক্তি পান।

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ একটি বিষয় স্পষ্ট করে—রাজনীতিতে কোনো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়।

তবে ইতিহাসের মূল্যায়ন কেবল রাজনৈতিক পতন দিয়ে শেষ হয় না। প্রকৃত মূল্যায়ন হয় নথি, সাক্ষ্য, প্রমাণ, আদালতের রায় এবং সময়ের পরীক্ষায়।

শেষ কথা

শিরীন শারমিন চৌধুরীর গ্রেপ্তার বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি আলোচিত ঘটনা। লালবাগ থানার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো, আদালতে রিমান্ড আবেদন, কারাগারে পাঠানো এবং পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি—প্রতিটি ধাপই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।

এই মামলার প্রকৃত সত্য শেষ পর্যন্ত তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।

২০২৪ সালের আন্দোলনে যারা নিহত, আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের ন্যায়বিচারের দাবি যেমন উপেক্ষা করার সুযোগ নেই, তেমনি অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায্য বিচার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারও অস্বীকার করা যায় না।

বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিচার যেন প্রতিশোধের হাতিয়ার না হয় এবং ন্যায়বিচার যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শিরীন শারমিন চৌধুরীর মামলা সেই বৃহত্তর পরীক্ষারই একটি অংশ।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স

Inter-Parliamentary Union — শিরীন শারমিন চৌধুরীর প্রোফাইল ও প্রথম নারী স্পিকার হওয়ার তথ্য
Inter-Parliamentary Union — Dr Shirin Sharmin Chaudhury

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ — সাবেক ও বর্তমান স্পিকারদের সরকারি তালিকা
Bangladesh Parliament — Speakers

BSS — শিরীন শারমিন চৌধুরীর স্পিকার পদ থেকে পদত্যাগ, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
BSS — Speaker Shirin Sharmin Chaudhury resigns

bdnews24.com — শিরীন শারমিনের পদত্যাগ ও রাজনৈতিক পটভূমি
bdnews24 — Speaker Shirin Sharmin Chaudhury resigns

The Daily Star — ৭ এপ্রিল ২০২৬ লালবাগের হত্যা-চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার ও আদালতের আদেশ
The Daily Star — Ex-speaker Shirin sent to jail in attempted murder case

The Business Standard — ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার ও লালবাগ মামলার বিবরণ
The Business Standard — Former speaker Shirin Sharmin arrested in Lalbagh murder case

Prothom Alo — ডিবির রিমান্ড আবেদন ও মামলার বিবরণ
Prothom Alo — DB seeks remand for Shirin Sharmin

The Daily Star — ১২ এপ্রিল ২০২৬ শিরীন শারমিনের জামিন
The Daily Star — Shirin Sharmin released on bail

BSS — লালবাগের মামলায় আদালতের কার্যক্রম
BSS — Shirin Sharmin Chaudhury sent to jail in Lalbagh mass uprising case

ISPR-সংক্রান্ত প্রতিবেদন — ৬২৬ জনের সেনানিবাসে আশ্রয়ের তালিকা
Prothom Alo — Army provides list of 626 people who took shelter in cantonments

👁 10 views

Mamunur RASHID

Mamunur RASHID is the editor and writer of July36 Chronicles, an independent digital publication covering Bangladesh, international affairs, history, society and current events. He focuses on presenting informative, contextual and responsibly sourced stories for Bengali-speaking readers.

Leave a Comment