● LIVE
Bangladesh

বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইলে ভারতের ভূখণ্ড কি অস্থিতিশীল হবে না?

Author: Published: Updated: 26/08/2026 Comments: 0 Estimated reading time: 1 min read
বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইলে ভারতের ভূখণ্ড কি অস্থিতিশীল হবে না?
বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা শুধু বাংলাদেশের নয়, ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

একটি ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক নির্ভরতার বিশ্লেষণ

তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—বাংলাদেশকে যদি কেউ পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করে তুলতে চায়, তাহলে সেই অস্থিতিশীলতার ঢেউ কি ভারতের ভূখণ্ডে পৌঁছাবে না?

উত্তরটি সরলভাবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে শেষ করা যায় না। তবে ইতিহাস, ভূগোল ও বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে পড়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট। একইভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাবও বাংলাদেশে আসতে পারে।

এ কারণেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে কেবল ‘কে কাকে চাপ দেবে’—এই দৃষ্টিতে দেখলে বাস্তবতাকে ছোট করে দেখা হয়। বরং এটিকে দেখতে হবে পারস্পরিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সম্পর্ক হিসেবে।

১. ভূগোলই প্রথম বাস্তবতা

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। এটি ভারতের কোনো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সবচেয়ে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত।

এই সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম—ভারতের একাধিক রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ তৈরি করেছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হলে সেটি কাগজে-কলমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকলেও বাস্তবে সীমান্তের ওপারে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

একটি সীমান্ত যদি কয়েকশ কিলোমিটার হতো, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ হতে পারত। কিন্তু হাজার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে মানুষের চলাচল, সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর আত্মীয়তা, নদী, কৃষি, ব্যবসা এবং বিভিন্ন ধরনের বৈধ-অবৈধ যোগাযোগ রয়েছে।

ফলে সীমান্তের এক পাশের অস্থিরতা অন্য পাশকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাখতে পারে না।

২. বাংলাদেশের অস্থিরতা ভারতের জন্য কেন নিরাপত্তা ঝুঁকি হতে পারে?

বাংলাদেশে যদি রাজনৈতিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, আইনশৃঙ্খলা দুর্বল হয় এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অবনতি ঘটে, তাহলে কয়েকটি সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

প্রথমত, সীমান্ত দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত মানুষের চলাচল বাড়তে পারে।

দ্বিতীয়ত, চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বাড়তে পারে।

তৃতীয়ত, অস্ত্র, মাদক, মানবপাচার এবং জাল মুদ্রার নেটওয়ার্ক সক্রিয় হতে পারে।

চতুর্থত, কোনো সশস্ত্র বা উগ্রপন্থী গোষ্ঠী অস্থিতিশীল পরিবেশকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।

পঞ্চমত, সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্যগুলোতে সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।

এসব আশঙ্কা কেবল তাত্ত্বিক নয়। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকেও সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পারাপার, মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, সোনা, মানবপাচার এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই পক্ষ যৌথ টহল ও রিয়েল-টাইম তথ্য বিনিময় বাড়ানোর ব্যাপারেও একমত হয়েছে।

অর্থাৎ দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিজেরাই স্বীকার করে যে সীমান্তের নিরাপত্তা এক দেশের বিষয় নয়; এটি পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়।

৩. ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর

বাংলাদেশকে বোঝার ক্ষেত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভূগোল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ স্থলপথের মাধ্যমে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এই অঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলে।

ভারত ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে রেল, সড়ক ও নৌ যোগাযোগের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সংযোগ সহজ করার চেষ্টা করেছে।

আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ তার একটি উদাহরণ। ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম আন্তঃসীমান্ত রেল সংযোগ। একইভাবে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে মূল ভূখণ্ডে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যে যোগাযোগব্যবস্থা ভারতের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করে, সেটিই আবার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল।

বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে রেলপথ, সড়কপথ, নৌপথ ও বন্দরকেন্দ্রিক যোগাযোগও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও যুক্ত।

৪. অস্থিতিশীলতা সীমান্ত মানে না

অস্থিতিশীলতার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—এটি রাজনৈতিক সীমারেখা মেনে চলে না।

একটি দেশে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক সহিংসতা, অপরাধ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে মানুষের একটি অংশ বিকল্প নিরাপত্তা বা জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র যেতে পারে।

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এর প্রভাব তুলনামূলক দ্রুত দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্যগুলোতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারতকে অতিরিক্ত সীমান্ত নিরাপত্তা, নজরদারি, জননিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

একইভাবে বাংলাদেশকেও ভারতীয় সীমান্তে উত্তেজনা, অবৈধ প্রবেশ, মাদক, অস্ত্র বা অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধের চাপ মোকাবিলা করতে হবে।

তাই দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা বিচ্ছিন্ন নয়।

৫. সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর বাস্তবতা

রাষ্ট্রের সীমান্ত মানচিত্রে একটি রেখা। কিন্তু সীমান্তবর্তী মানুষের কাছে সেটি সবসময় এত সরল নয়।

একই ভাষা, সংস্কৃতি, আত্মীয়তা, ব্যবসা ও সামাজিক যোগাযোগের সম্পর্ক দুই পাশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে।

এই বাস্তবতার কারণে রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন সীমান্তে পৌঁছে যায়, তখন সাধারণ মানুষও তার প্রভাব অনুভব করে।

সীমান্তে বাণিজ্য বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সীমান্তের ছোট ব্যবসায়ী।

সীমান্ত হাট বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্থানীয় জনগোষ্ঠী।

যোগাযোগ বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও পরিবার।

২০২৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্ত হাট পুনরায় চালু করা, স্থলবন্দরগুলোকে পূর্ণ কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা কমানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে। সে সময় বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করেন।

এটি দেখায় যে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

৬. বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে ভারতের অর্থনীতিও চাপ অনুভব করতে পারে

অনেক সময় ভূরাজনৈতিক আলোচনায় শুধু সামরিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও জাতীয় নিরাপত্তার অংশ।

বাংলাদেশ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুই দেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল প্রায় ১২.৯ বিলিয়ন ডলার।

এছাড়া বাংলাদেশের বন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে অস্থিরতা বাড়লে—

  • সীমান্ত বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে;
  • পণ্য পরিবহন ব্যাহত হতে পারে;
  • রেল ও নৌ যোগাযোগের ওপর চাপ পড়তে পারে;
  • সীমান্তবর্তী ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন;
  • উত্তর-পূর্ব ভারতের বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে;
  • ভারতের নিরাপত্তা ব্যয় বাড়তে পারে।

অর্থাৎ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে ভারত নিজের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমস্যা তৈরি করার ঝুঁকি নিতে পারে।

৭. ‘প্রতিবেশীকে দুর্বল করে নিজে শক্তিশালী’—এই ধারণা কতটা বাস্তবসম্মত?

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অনেক সময় বড় রাষ্ট্র ছোট প্রতিবেশী রাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। কিন্তু ২১ শতকের আন্তঃনির্ভরশীল বিশ্বে প্রতিবেশীকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুব সহজ নয়।

কারণ দুর্বল রাষ্ট্রের সীমান্তে দুর্বলতা তৈরি হলে তার প্রভাব প্রতিবেশী রাষ্ট্রেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ধরা যাক, কোনো রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে গেল।

সেখানে যদি চোরাচালান বাড়ে, তাহলে সীমান্তের ওপারের রাষ্ট্রও সমস্যায় পড়বে।

যদি মানবপাচার বাড়ে, তাহলে অপর পাশেও অপরাধী নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।

যদি অস্ত্রের প্রবাহ বাড়ে, তাহলে সীমান্তবর্তী অঞ্চল নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠবে।

যদি উগ্রবাদী সংগঠন শক্তিশালী হয়, তাহলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রও ঝুঁকিতে পড়বে।

সুতরাং স্থিতিশীল প্রতিবেশী অনেক সময় দুর্বল প্রতিবেশীর চেয়ে বড় রাষ্ট্রের জন্য বেশি নিরাপদ।

৮. ভারতের জন্য বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা কৌশলগত সম্পদ

বাংলাদেশের অবস্থান ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের পশ্চিমে ভারতীয় মূল ভূখণ্ড, উত্তরে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযোগ, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মিয়ানমারের দিকে বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক পরিবেশ।

এই অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও যোগাযোগের স্বার্থ রয়েছে।

ভারতের সরকারি নথিতে বাংলাদেশকে তার ‘Neighbourhood First’ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রাখা হয়েছে।

এ কারণেই বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভারতের জন্য শুধু কূটনৈতিক সুবিধা নয়; এটি কৌশলগত সুবিধাও।

৯. কিন্তু বাংলাদেশেরও কি ভারতের ওপর নির্ভরতা আছে?

অবশ্যই।

বাংলাদেশেরও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, চিকিৎসা, শিক্ষা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক যোগাযোগের বহু সম্পর্ক রয়েছে।

তাই সম্পর্কের ক্ষেত্রে একতরফা নির্ভরতার পরিবর্তে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রয়োজন।

বাংলাদেশের উচিত ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, কিন্তু একই সঙ্গে নিজের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারও অক্ষুণ্ণ রাখা।

ভারতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

বাংলাদেশকে নিজের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করতে হবে।

১০. বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, প্রত্যর্পণ প্রশ্ন, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা গেছে এবং দুই দেশের কূটনৈতিক পরিবেশ উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথা আলোচনায় এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন রাষ্ট্র-রাষ্ট্র সংঘাতে পরিণত না হয়।

কারণ রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তিত হয়। কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো যায় না।

বাংলাদেশ ও ভারত পাশাপাশি থাকবে।

সীমান্ত থাকবে।

নদী থাকবে।

মানুষ থাকবে।

বাণিজ্য থাকবে।

সুতরাং আজকের রাজনৈতিক বিরোধকে এমন পর্যায়ে নেওয়া উচিত নয়, যার মূল্য আগামী প্রজন্মকে দিতে হয়।

১১. সীমান্তে উত্তেজনা দুই দেশের জন্যই ক্ষতিকর

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে সময়ে সময়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সীমান্তে প্রাণহানি, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, অবৈধ পারাপার ও বিভিন্ন অভিযোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করে।

২০২৬ সালের জুনের সীমান্ত বৈঠকেও বেড়া নির্মাণ, সীমান্তে প্রাণহানি এবং অবৈধ পারাপারের বিষয় উঠে এসেছে। একই সঙ্গে দুই পক্ষ সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই দ্বৈত বাস্তবতা আমাদের একটি শিক্ষা দেয়—

সমস্যা আছে, কিন্তু সমস্যার সমাধানের জন্য যোগাযোগের পথও আছে।

সীমান্তে গুলি চালানোর চেয়ে সীমান্ত বৈঠক কার্যকর।

অভিযোগের চেয়ে তথ্য বিনিময় কার্যকর।

রাজনৈতিক উত্তেজনার চেয়ে কূটনৈতিক সংলাপ কার্যকর।

১২. বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতা ভারতের কোন অঞ্চলগুলোতে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে?

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলো।

পশ্চিমবঙ্গ: দীর্ঘ সীমান্ত, ব্যাপক জনগোষ্ঠী, বাণিজ্য ও সামাজিক যোগাযোগের কারণে প্রভাবের মাত্রা বেশি হতে পারে।

আসাম: সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিবাসন, জনসংখ্যাগত রাজনীতি এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিষয়গুলো এখানে সংবেদনশীল।

মেঘালয়: সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠী ও পাহাড়ি অঞ্চলের যোগাযোগের কারণে স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ।

ত্রিপুরা: বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ও ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে বাংলাদেশের পরিস্থিতির প্রভাব দ্রুত অনুভূত হতে পারে।

মিজোরাম: সীমান্ত নিরাপত্তা ও বৃহত্তর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানও পরোক্ষভাবে যুক্ত।

অতএব বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতা ভারতের জন্য শুধু দিল্লির কূটনৈতিক সমস্যা হবে না; তা ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তার সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

১৩. সবচেয়ে বড় ঝুঁকি—অপরাধ ও উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক

কোনো রাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে অপরাধী চক্র সাধারণত সুযোগ নিতে চায়।

সীমান্ত অঞ্চলগুলো তাদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়।

কারণ সীমান্তের দুই পাশে আলাদা আইনব্যবস্থা, আলাদা প্রশাসন এবং বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক থাকে।

যদি রাষ্ট্রীয় নজরদারি দুর্বল হয়, তাহলে অপরাধীরা সীমান্তকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করতে পারে।

এই কারণেই ২০২৬ সালের সীমান্ত বৈঠকে মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, সোনা ও মানবপাচারের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের নিরাপত্তা দুর্বল হওয়া ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্যও নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

১৪. পানি—আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা

বাংলাদেশ ও ভারত বহু আন্তঃসীমান্ত নদী ভাগ করে।

দুই দেশের মধ্যে নদী, বন্যা, পানি ব্যবস্থাপনা ও নদীভাঙন নিয়ে সহযোগিতা তাই অপরিহার্য।

ভারতীয় সংসদীয় গবেষণা সংস্থা PRS-এর ২০২৫ সালের একটি পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে দুই দেশ ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী ভাগ করে এবং পানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে এখনও বেশ কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন রয়েছে, যার মধ্যে তিস্তা গুরুত্বপূর্ণ।

একটি অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ পানি ব্যবস্থাপনার মতো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়েও সহযোগিতা কঠিন করে তুলতে পারে।

ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ভারতের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বাংলাদেশের পানি ও পরিবেশগত স্বার্থের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

১৫. ‘অস্থিতিশীল বাংলাদেশ’ শেষ পর্যন্ত কার লাভ?

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

যদি বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ভারতের সীমান্তবর্তী ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ভারতের সীমান্ত বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মানুষের চলাচল কমবে।

যোগাযোগ ব্যাহত হবে।

নিরাপত্তা ব্যয় বাড়বে।

অপরাধী গোষ্ঠী লাভবান হতে পারে।

তৃতীয় কোনো শক্তি আঞ্চলিক বিভাজন কাজে লাগানোর সুযোগ পেতে পারে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ কিংবা ভারতের সাধারণ জনগণের নয়।

বরং যারা দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস, সংঘাত ও বিভাজন বাড়াতে চায়, তারাই সুবিধা পেতে পারে।

১৬. ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হওয়া উচিত?

ভবিষ্যতের সম্পর্ক হওয়া উচিত বাস্তববাদী, পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক এবং স্বার্থনির্ভর।

বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—

প্রথমত: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট না করে জাতীয় স্বার্থ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।

দ্বিতীয়ত: সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা দাবি করা।

তৃতীয়ত: পানি বণ্টনের প্রশ্নে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজা।

চতুর্থত: বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নত করা।

পঞ্চমত: আঞ্চলিক যোগাযোগকে দুই দেশের পারস্পরিক সুবিধায় ব্যবহার করা।

ষষ্ঠত: সীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় যৌথ সহযোগিতা বাড়ানো।

অন্যদিকে ভারতের জন্যও কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—

প্রথমত: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সম্মান করা।

দ্বিতীয়ত: সীমান্তে বলপ্রয়োগ কমিয়ে আস্থা বাড়ানো।

তৃতীয়ত: বাণিজ্য ও বাজারে ন্যায্যতার পরিবেশ তৈরি করা।

চতুর্থত: পানি ও সীমান্ত সমস্যাকে দীর্ঘসূত্রতায় না ফেলা।

পঞ্চমত: বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ককে কেবল একটি নির্দিষ্ট সরকারের ওপর নির্ভরশীল না করা।

১৭. বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চিন্তা কেন ভারতের জন্যও আত্মঘাতী হতে পারে?

একটি দেশের নিরাপত্তা তার প্রতিবেশীদের নিরাপত্তা থেকে আলাদা নয়—দক্ষিণ এশিয়ার ভূগোল তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

বাংলাদেশের চারপাশে ভারতের বিস্তৃত ভূখণ্ড এবং একটি অংশে মিয়ানমারের সীমান্ত। ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বদলালে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার ওপর তার প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে।

ভারতের নিজস্ব সংসদীয় বিশ্লেষণেও বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

তাই কোনো পক্ষ যদি মনে করে—

“বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে শুধু বাংলাদেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে”—

তাহলে সেটি ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

১৮. তবে বাংলাদেশেরও একটি দায়িত্ব আছে

শুধু ভারতের দিকে আঙুল তুললে এই আলোচনাটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

বাংলাদেশেরও দায়িত্ব আছে নিজের ভূখণ্ডকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, উগ্রবাদ, অস্ত্র পাচার বা আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঘাঁটিতে পরিণত হতে না দেওয়া।

বাংলাদেশকে তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে, কিন্তু একই সঙ্গে প্রতিবেশীর বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

একইভাবে ভারতকেও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা—দুটিকে পরস্পরের শত্রু হিসেবে দেখা উচিত নয়।

১৯. পারস্পরিক নির্ভরতার যুগে যুদ্ধ নয়, স্থিতিশীলতাই শক্তি

আজকের বিশ্বে কোনো দেশ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নভাবে উন্নতি করতে পারে না।

অর্থনীতি আন্তর্জাতিক।

সরবরাহ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক।

নিরাপত্তা আন্তঃসীমান্ত।

পরিবেশ আন্তঃসীমান্ত।

নদী আন্তঃসীমান্ত।

অপরাধও আন্তঃসীমান্ত।

এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরকে দুর্বল করার প্রতিযোগিতায় গেলে উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বরং উভয় দেশ যদি স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে দুই দেশই লাভবান হতে পারে।

২০. শেষ কথা: বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা মানে শুধু বাংলাদেশকে আঘাত করা নয়

বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের জনগণের অধিকার।

কোনো বিদেশি শক্তির উচিত নয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের মাটিও কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার হওয়া উচিত নয়।

এই দুই নীতির মধ্যে ভারসাম্যই সুস্থ প্রতিবেশী সম্পর্কের ভিত্তি।

ভারত যদি সত্যিই নিজের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে চিন্তিত হয়, তাহলে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা তার জন্য কৌশলগত স্বার্থ হওয়া উচিত।

কারণ বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতা কেবল ঢাকার রাস্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

তার ঢেউ সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও মিজোরামে পৌঁছাতে পারে।

চোরাচালান বাড়তে পারে।

মানুষের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বাড়তে পারে।

সীমান্ত উত্তেজনা বাড়তে পারে।

অপরাধী নেটওয়ার্ক সক্রিয় হতে পারে।

বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভারতেরও নিরাপত্তা সম্পদ।

তাই প্রশ্নটি শুধু—“বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করলে বাংলাদেশের কী হবে?”—এখানেই শেষ নয়।

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—

“বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে ভারতের সীমান্ত কি স্থিতিশীল থাকবে?”

বাস্তবতার উত্তর হলো—তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

বরং দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোর ওপরও নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সামাজিক চাপ তৈরি করতে পারে।

এই কারণেই বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমান কৌশল হলো সংঘাত নয়—স্থিতিশীলতা।

চাপ নয়—সংলাপ।

অবিশ্বাস নয়—পারস্পরিক আস্থা।

একতরফা আধিপত্য নয়—পারস্পরিক স্বার্থ।

কারণ দুই দেশের সীমান্তের মাঝখানে একটি কাঁটাতারের বেড়া থাকতে পারে, কিন্তু নিরাপত্তা, অর্থনীতি, নদী, পরিবেশ, বাণিজ্য ও মানুষের ভবিষ্যতের মধ্যে কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই।

বাংলাদেশের শান্তি ভারতের জন্যও নিরাপদ।

ভারতের শান্তি বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

আর দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে—

প্রতিবেশীকে অস্থিতিশীল করে কেউ দীর্ঘমেয়াদে নিজে স্থিতিশীল থাকতে পারে না।

তাই বাংলাদেশকে দুর্বল করার কোনো কৌশল যদি কখনো বাস্তবে নেওয়া হয়, তার আগে শুধু বাংলাদেশের সম্ভাব্য ক্ষতি নয়—ভারতের নিজের ভূখণ্ডে তার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়াও হিসাব করা জরুরি।

কারণ ভূরাজনীতিতে প্রতিবেশীর আগুন কখনো শুধু প্রতিবেশীর ঘরেই জ্বলে না।

main Editor July36bd

July36 Editorial Team

Leave a Comment