● LIVE
Breaking News

ইতিহাসের প্রথম সর্বসম্মত বিজয়ী হিসেবে এনবিএ-র ‘সেরা রক্ষণভাগ খেলোয়াড়’ নির্বাচিত ভিক্টর ওয়েম্বানিয়ামা

👤 📅 📝 26/05/2026 💬 0 ⏱ 1 min read
ইতিহাসের প্রথম সর্বসম্মত বিজয়ী হিসেবে এনবিএ-র ‘সেরা রক্ষণভাগ খেলোয়াড়’ নির্বাচিত ভিক্টর  ওয়েম্বানিয়ামা

চলতি পূর্বাভাসগুলো সত্যি হলে, বাস্কেটবলে রক্ষণের দিক থেকে অতুলনীয় এই স্পার্স সেন্টারের জন্য এই পুরস্কারটি হবে কেবল শুরুর ধাপ। নিজের চমৎকার রক্ষণাত্মক দক্ষতার সুবাদে তিনি নিকোলা জোকিচ এবং শাই গিলজিয়াস-আলেকজান্ডারের পাশাপাশি এই মৌসুমের মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (MVP) পদের জন্যও একজন ফাইনালিস্ট।

ওয়েম্বানিয়ামার খেলার ধরন বিভিন্ন দিক থেকে নজিরবিহীন। ৭ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার সাথে বলের নিয়ন্ত্রণ, চমৎকার ফেস-আপ গেম, পোস্ট মুভ এবং সেই সাথে ৩-পয়েন্ট শট নেওয়ার ক্ষমতার কারণে তাঁকে আটকে রাখা প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের জন্য প্রায় অসম্ভব। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাঁর রক্ষণভাগ বা ডিফেন্সই তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

প্রতিপক্ষের বল হাতে থাকা খেলোয়াড়দের সবসময় ওয়েম্বানিয়ামা এবং তাঁর ৮ ফুটের উইংস্প্যান (দুই হাতের বিস্তার) মাথায় রেখে খেলতে হয়—তা সে রিমের কাছে আক্রমণ করার সময় হোক, মিড-রেঞ্জ থেকে শট নেওয়ার সময় হোক কিংবা পেরিমিটারে হোক।

ব্লকের দিক থেকে ওয়েম্বির ধারেকাছে কেউ নেই

নিজের তিন বছরের এনবিএ ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো প্রতি ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ব্লকের (৩.১) তালিকায় শীর্ষে ছিলেন ওয়েম্বানিয়ামা। লিগের সেরা ‘রিম প্রটেক্টর’ হিসেবে তিনি প্রতিপক্ষের অসংখ্য শট নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তিনি প্রতি ম্যাচে গড়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী চেট হোমগ্রেনের (প্রতি ম্যাচে ১.৯টি ব্লক) চেয়েও একটির বেশি ব্লক করেছেন।

কেবল ব্লকের সংখ্যার দিক থেকেই তিনি প্রতি ম্যাচের ‘স্টকস’ (ব্লক + স্টিল) তালিকায় লিগের শীর্ষে ছিলেন, যা একজন খেলোয়াড়ের রক্ষণাত্মক প্রভাব পরিমাপের জন্য একটি বহুল ব্যবহৃত সূচক। এর পাশাপাশি একজন বহুমুখী ডিফেন্ডার হিসেবে তিনি প্রতি ম্যাচে গড়ে একটি করে বল কেড়েও (steal) নিয়েছেন।

ওয়েম্বির ডিফেন্স = স্পার্সের জয়

ওয়েম্বানিয়ামার এই রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্স স্পার্সের জন্য দারুণ সাফল্য বয়ে এনেছে। দল হিসেবে স্পার্স ডিফেন্সিভ রেটিংয়ে লিগের তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যার মূল কৃতিত্ব ওয়েম্বানিয়ামার। আর এর ফলেই ২০১৯ সালের পর স্পার্স আবারও প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছে এবং চ্যাম্পিয়নশিপের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠেছে।

স্পার্স দলকে নেতৃত্ব দিয়ে এনবিএ-র দ্বিতীয় সেরা রেকর্ড (৬২-২০) এবং ওয়েস্টার্ন কনফারেন্স প্লে-অফে ২ নম্বর সিড নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই পুরস্কার জিতলেন তিনি। গত রবিবার নিজের প্লে-অফ অভিষেকেই তিনি পোর্টল্যান্ড ট্রেইল ব্লিজার্সের বিরুদ্ধে ১১১-৯৮ ব্যবধানের জয়ে স্পার্সকে নেতৃত্ব দেন।

ওয়েম্বির কোনোমতে ৬৫ ম্যাচের কোটা পূরণ

ম্যাচ খেলার সংখ্যার কারণে ওয়েম্বানিয়ামা প্রায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই পুরস্কারের দৌড় থেকে ছিটকে যাচ্ছিলেন। তবে এনবিএ-র নিয়ম অনুযায়ী মৌসুম-পরবর্তী পুরস্কারের যোগ্য হতে যে সর্বনিম্ন ৬৫টি ম্যাচ খেলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তিনি ঠিক সেই কোটা স্পর্শ করতে পেরেছেন।

এই সংখ্যার মধ্যে নিউ ইয়র্ক নিক্সের বিরুদ্ধে সান আন্তোনিও-র এনবিএ কাপ ফাইনালের ম্যাচটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা মূল স্ট্যান্ডিংয়ে যোগ না হলেও এই ৬৫ ম্যাচের ন্যূনতম কোটায় গণনা করা হয়েছে।

জোকিচ, লুকা দনচিচ, কেড কানিংহাম এবং অ্যান্থনি এডওয়ার্ডসের মতো বেশ কয়েকজন পুরস্কার ও অল-এনবিএ পদপ্রত্যাশী খেলোয়াড় এই ৬৫ ম্যাচের কোটার কাছাকাছি গিয়েও তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা এই নিয়মটি আদৌ যৌক্তিক কি না তা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচের আগের ম্যাচে এই কোটা পূরণ করে ফেলায় ওয়েম্বানিয়ামাকে আর এটি নিয়ে চিন্তিত হতে হয়নি।

mamunphf

July36 Editorial Team

Leave a Comment